প্রতিদিন জীবাণুনাশক স্প্রে, গোবিন্দ বণিকের প্রশংসায় ময়মনসিংহের ডিসি

মশিউর রহমান কাউসার
প্রকাশিত : রবিবার ৫ এপ্রিল, ২০২০ /

করোনা ভাইরাস বিস্তাররোধে গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন জীবাণুনাশক ছিটানোর উদ্যোক্তা স্কুল শিক্ষক গোবিন্দ বণিকের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান। শনিবার (৪ এপ্রিল) তিনি নিজ ফেসবুক আইডিতে ‘একজন গোবিন্দ বণিকের গল্প’ শিরোনামে স্বেচ্ছাশ্রমের কর্মকান্ড উল্লেখ্য করে একটি স্ট্যাটাস আপলোড করেন।
জেলা প্রশাসক এতে উল্লেখ করেন, ভাল কাজ করার জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা, প্রতিজ্ঞা, দেশপ্রেম ও টিমওয়ার্ক। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এরকম অসংখ্য গোবিন্দ বনিক, যারা ইচ্ছা শক্তি ও আন্তরিকতা দিয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন অকাতরে। আশাকরি আমরা সবাই এ রকম মানুষদের খুঁজে বের করবো এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান করবো। ময়মনসিংহ জেলায় এরকম গোবিন্দ বনিকদের খুঁজে পেতে আমরা সকলের সহায়তা চাই।

প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা ব্যস্ততম সড়কের দু’পাশে অবস্থান গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারটির। এ বাজারের কিছু অংশ নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার সীমানায় পড়েছে। গৌরীপুর-পূর্বধলা ছাড়াও ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও নেত্রকোণার সদর উপজেলার ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটে এ বড় বাজারটিতে। তাই এ বাজার থেকেই মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাস বিস্তারের সম্ভাবনা বেশি। এ বিষয়টি উপলব্দি করে স্থানীয় শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামীগের নেতা গোবিন্দ বণিক বাজারটিকে জীবাণুমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেন।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে তিনি নিজ উদ্যোগে স্থানীয় স্বপ্ন সমবায় সমিতির ব্যানারে ২৯ মার্চ শ্যামগঞ্জ বাজারে সীমিত আকারে শুরু করেন জীবাণুনাশক তরল ঔষধ ছিটানো কার্যক্রম। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছিটানোর দৃশ্য ফেইসবুকে ভাইরাল হলে স্থানীয় সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ গোবিন্দ বণিককে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে সংগঠিত প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন এ কার্যক্রম চলছে। এজন্য ১০ জন স্প্রে মেশিন অপারেটর অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের মাঝে লাল রংয়ের সুরক্ষা পোশাক, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, জুতা, চশমা বিতরণ করা হয়েছে। এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম পড়ে অপারেটরগণ ১০ টি স্প্রে মেশিনে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে রাস্তায় চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন, বাজারে দোকানপাট, অলি-গলিসহ বিভিন্ন স্থান জীবাণুমুক্ত করছেন। স্থানীয় লোকজন তাদের নাম দিয়েছেন লাল বাহিনী।

লাল বাহিনীর এ জীবাণুমুক্ত কর্মসূচী স্থানীয় জনগনের ব্যাপক নজর কাড়ে। ফেসবুকে এ দৃশ্য দেখে শ্যামগঞ্জের কৃতি সন্তান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজহারুল ইসলাম মুকুল কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁর মতো আরো অনেকেই এ কর্মসূচীতে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
এদিকে স্বেচ্ছাশ্রমে এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার জন্য গোবিন্দ বণিককে অভিনন্দন জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর, জেলা যুবলীগ নেতা তানজীর আহমেদ রাজীব, মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন মনোজ, সাবেক ছাত্রনেতা মামনুুর রশিদ, সাংবাদিক তিলক রায়সহসহ আরো অনেকেই।

গোবিন্দ বণিক জানান, স্থানীয় সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণের সার্বিক সহযোগিতায় এ কার্যক্রম চলছে। দুর্যোগকালীন সময়ে এ কর্মসূচী চালু থাকবে বলে জানান।
এসময় তিনি কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য অ্যাডিশনাল এসপি আজহারুল ইসলাম মুকুল, গ্রীনগিফট বাংলাদেশের পরিচালক সমাজসেবক মিজানুর রহমান বাবু, পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি রেজিষ্টার শারমিন জাহান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন মনোজ, সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক-তিলক রায়, ক্ষেতমজুর সমিতির অর্নব সরকার, মফিদুল ইসলাম অসীম, রাজধানীর ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান পাভেল, ধনঞ্জয় সাহা এনআইটির দীপক চক্রবর্তী সুমন, স্কয়ার ফার্মার অপূর্ব ঘোষ, ব্যাংক কর্মকর্তা ফরহাদ ইফতেখার, রুহুল আমীন, ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান খান মিল্টন, মাহফুজুর রহমান খান টুটন, বিপুল দেব, রুপন ঘোষ, সজীব সরকার সাজু স্বরন বনিক সন্টি, শ্যামল ধর, শিক্ষক আল আমীন, নিগার সুলতানা মিতু, বিপুল কুমার পন্ডিত, ফখরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :