প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ গেল গর্ভের সন্তানের

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ /

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর উকিলবাড়ি এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় জিতু আক্তার (২৫) নামে এক গর্ভবতী নারীর পেটে থাকা সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মস্তফাপুর উকিলবাড়ি এলাকার শাজাহান হাওলাদারের ছেলে রাজু হাওলাদার (৩০) তার চাচাতো ভাই জহির হাওলাদারের (৩৫) কাছে একটি মোটরসাইকেল বন্ধক রেখে লাভ দেয়ার কথা বলে টাকা ধার নেন। কিছুদিন পরে রাজু বন্ধক রাখার মূল টাকা জমা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে নেন। কিন্তু লাভের টাকা দেননি। এই লাভের টাকাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জহির হাওলাদার লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলায় রাজুর মা সাফিয়া বেগম (৫৩), গর্ভবতী স্ত্রী জিতু আক্তার (২৫), ছোট ভাই জসিম হাওলাদার (২৪), নাছিম হাওলাদার (২০) আহত হন। এদের মধ্যে সাফিয়া বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জসিম ও নাছিম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় গুরুতর আহত গর্ভবতী জিতু আক্তারকে শহরের প্রত্যাশা প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে রাতেই সিজার করা হয়। এ সময় তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন।

রাজু হাওলাদার বলেন, আমার চাচাতো ভাই জহিরের কাছে মোটরসাইকেল রেখে টাকা ধার নেই। আমি মূল টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে নিয়ে আসি কিন্তু লাভের টাকাটা দেয়া হয়নি। লাভের টাকার জন্যই জহির রাতে লোকজন নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে গর্ভবতী স্ত্রী, মা ও ভাইদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। আহত সবাইকে রাতে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় হয়। হামলায় আমার স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তান মারা যায়। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

প্রত্যাশা প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এলিজা বলেন, আমরা রাতে অপারেশন করে দেখি শিশুটি মারা গেছে। এই নারীর পেটে গুরুতর আঘাত লাগার ফলে তার গর্ভে থাকা সন্তান মারা গেছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আমি সদর হাসপাতালে ও প্রত্যাশা প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :