ফকির আলমগীর আর নেই

ওবায়দুর রহমান
প্রকাশিত : শনিবার ২৪ জুলাই, ২০২১ /

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর মারা গেছেন। ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ফকির আলমগীরের ভাতিজা ও সারাবাংলা ডটনেটের ক্রীড়া সাংবাদিক মহিবুর রহমান ফকির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ফকির আলমগীরের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে রেখে গেছেন।গত ১৪ জুলাই করোনা পজিটিভ হন ফকির আলমগীর। এরপর ১৫ জুলাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৮ জুলাই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ফকির আলমগীর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন বলে সারাবাংলাকে জানান তার ছেলে মাশুক আলমগীর।

১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তার শ্বাসকষ্ট অনেক বেড়ে যাওয়ায় তাকে রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ না থাকায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফকির আলমগীর ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলনে তাকে বহুবার দেখা গেছে। তিনি ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেব ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন এ গণসংগীত শিল্পী।

এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার

আপনার মতামত লিখুন :