ফুলবাড়ীয়ায় ১ মণের পিতলের গুটি নিয়ে খেলা, দেখবে কয়েক লাখ মানুষ

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

২৬৩ তম গুটি খেলার আসরকে ঘিরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার দেওখোলা ইউপিতে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। জমিদার আমলের তালুক-পরগনা সীমানার বড়ই আটা নামক স্থানে পৌষের শেষ বিকাল ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে খেলাটি।
জমিদারি আমলে বিরোধ মিমাংসায় শক্তি পরীক্ষার বিষয়টি আজ গুটি খেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর পৌষের শেষ বিকালে পিতলের তৈরি এক মণের গুটি খেলা দেখতে জমায়েত হয় লক্ষাধিক মানুষ।

গোটা পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দ আর উৎসবমুখর। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির মেয়েরা নাইওরি এসেছে, শিশুদের জন্য কেনা হচ্ছে জামা। পুরনো বাদ্যযন্ত্র ঠিকঠাক করে তাতে সুর তোলা হচ্ছে। পিঠাপুলি বানানোর সমস্ত আয়োজন শেষ করছেন গৃহবধূরা। উৎসবে উপলক্ষ্যে জবাই যে গরু করা হবে তাও কিনে আনা হয়েছে।

ফুলবাড়ীয়ার লক্ষীপুর ও দশ মাইলের মাঝামাঝি বড়ই আটা বন্ধে (মাঠে) খেলার কেন্দ্রস্থল। বিকেল চারটার দিকে খেলা শুরু হয়। সকাল থেকে ফুলবাড়ীয়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল, মুক্তাগাছা উপজেলার লোকজন আসতে থাকে লক্ষ্মীপুর বড়ই আটা বন্ধে। সড়কের অদূরে ভাটিপাড়া, বালাশ্বর, তেলিগ্রামের সংযোগস্থল নতুন সড়কে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

এই দিনটি এমনভাবে নির্ধারিত যে নতুন করে আর কোনো দিনক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না। সময়মতো লাখো মানুষের জমায়েত ঘটে চিরচেনা এই খেলার মাঠে। পিতলের তৈরি এক মণ ওজনের গুটি করায়াত্ত করে নিজ গ্রামে নিয়ে গুম করা পর্যন্ত চলে এই খেলা।

জানা গেছে, মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্তের সঙ্গে ত্রিশালের বৈলরের হেম চন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে, পরগনার প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল সাড়ে ৬ শতাংশে। একই জমিদারের ভূখণ্ডে দুই নীতির প্রতিবাদে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটায় প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় এই গুটি খেলার।

শর্ত ছিল, গুটি যে দিকে যাবে তা হবে তালুক, পরাজিত অংশের নাম হবে পরগনা। জমিদার আমলের গুটি খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হন। তালুক পরগনার সীমান্তে জিরো পয়েন্টে ব্রিটিশ আমলে জমিদারি খেলার গোড়াপত্তন। আমন ধান কাটা শেষ, বোরো ধান আবাদের আগে প্রজাদের শক্তি পরীক্ষার জন্য জমিদারদের এই পাতানো খেলা চলছে বছরের পর বছর ধরে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার আব্দুল খালেক জানান, গুটি খেলা ফুলবাড়ীয়ার একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খেলা। খেলাকে ঘিরে গ্রামে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

গুটি সংরক্ষণকারী মোড়ল পরিবারের চঞ্চল মাহমুদ মোড়ল বলেন, আমাদের সব আয়োজন ঠিকঠাক। এখন ক্ষণ গণনা চলছে। দেওখোলা ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান হাদী জানান, এ অঞ্চলে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলা। আর গ্রামে এখন আগের মতো খেলাধূলা না থাকায় গুটি খেলায় লাখো দর্শকের সমাগম হয়।