ফেনীতে ব্যাংক গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, কর্মকর্তা উধাও

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ১৯ মার্চ, ২০১৯ /

ফেনীতে ঢাকা ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকের একাউন্ট থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

গত বুধবার সকাল থেকে ব্যাংকটির ফেনী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার গোলাম সাঈদ রাশেবের (৩৫) সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে ওই শাখার ব্যবস্থাপক আখতার হোসেন সরকার জানিয়েছেন।  

গত বুধবারের পর ব্যাংক খোলা ছিল একদিন-বৃহস্পতিবার। এরপর টানা তিনদিন বন্ধ থাকার পর খুলেছে সোমবার। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হয়। 

গোলাম সাঈদ রাশেব বিভিন্ন গ্রাহকের অন্তত তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ধারণা।

ব্যবস্থাপক আখতার হোসেন সরকার বলেন, ঢাকা ব্যাংকের ফেনী শাখা চালু হলে জেলার সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বড় বাড়ির আজিজুল হক ভূঁইয়ার ছেলে গোলাম সাঈদ রাশেব যোগদান করেন। মাঝে কিছুদিন তিনি অন্য একটি শাখায় কাজ করলেও ফের বদলি হয়ে ফেনী শাখায় আসেন।

“এ শাখায় দুই মেয়াদে প্রায় ৯ বছর চাকরি করে পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ফেনী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার (ক্রেডিট) পদে দায়িত্ব পালন করেন।”

আখতার বলেন, দীর্ঘ সময় চাকরি করার সুবাদে এখানকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। গ্রাহকরা নির্দ্বিধায় তার কাছে চেক, নগদ অর্থ ও ঋণের কিস্তির টাকা দিয়ে যেতেন।

তিনি বলেন, বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে গোলাম সাঈদ রাশেব অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে নিজে এবং ব্যাংকের অন্য অফিসারদের দিয়ে ব্ল্যাংক চেক সংগ্রহ করেন।

তার গতিবিধি সন্দেহজনক হলে গত মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার ঊর্ধ্বতনদের লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করেন। পরদিন যথারীতি অফিসে এসে সকাল সাড়ে ১০টার পর বাইরে গিয়ে উধাও হয়ে যান ওই কর্মকর্তা, বলেন আখতার।

“চেক উত্তোলনের ম্যাসেজ পেয়ে বৃহস্পতিবার দুয়েকজন গ্রাহক ব্যাংকে অভিযোগ করলে বিষটি স্পষ্ট হয়।”

আখতার হোসেন আরও বলেন, কতজন গ্রাহকের কী পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত টাকা খোয়া গেছে মর্মে প্রায় ১৫ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সে হিসেবে ব্যাংকিং লেনদের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

বিষয়টি তারা ব্যাংকের প্রধান কার্যলয়ে অবগত করেছেন। ইতিমধ্যে প্রধান কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত দল (অডিট টিম) ফেনী শাখায় এসে কাজ শুরু করেছে। রাশেবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে বলে জানান আখতার।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর গ্রামের মাহবুবুল হক রিপনের একাউন্ট থেকে খোয়া গেছে ৩৪ লাখ টাকা।

তিনি অভিযোগ করেন, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের অধীনে ব্যাংকের এ শাখায় পাঁচ কোটি টাকার ঋণ চলমান রয়েছে।

“ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে দুটি ব্ল্যাংক চেক নেন গোলাম সাঈদ রাশেব। পরে একাউন্ট পরীক্ষা করে দেখা যায় এ দুটি চেক ব্যবহার করে তিনি টাকাগুলো উত্তোলন করেছেন।”

মাহবুবুল হক রিপনের ছোট ভাই ফজলুল হক পলাশের মুনতাসির এন্টারপ্রাইজ নামের একাউন্ট থেকে ৪২ লাখ টাকা একই কায়দায় তুলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফেনী শহরের বড় বাজারের কাপড়ের ব্যবসায়ী অজয় কুমার বণিকের লোক সসমন্বয় থেকে ৭০ লাখ টাকা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাচ্চুটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন মজুমদারের ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :