ফেসবুকজুড়ে শুধু আবরার, নিন্দার ঝড়

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : সোমবার ৭ অক্টোবর, ২০১৯ /

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকজুড়ে বইছে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়। পাশাপাশি তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছেন অনেকেই।

রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। তাকে রাত আটটার দিকে কয়েকজন ডেকে নেয় বলে জানান রুমমেটরা। সোমবার ভোরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর প্রায় ৩৫ ঘণ্টা আগে শনিবার বিকাল ৫টা ৩২ মিনিটে নিজের ফেসবুক ওয়ালে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরে স্ট্যাটাস দেন আবরার। আবরার নিহতের ঘটনার পর ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে তার লেখা শেষ স্ট্যাটাস। তার লেখা সেই স্ট্যাটাস নিয়ে অনেকেই তাদের ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না লিখেছেন, `আবরার ফাহাদের জন্য আমাদের কোনো শোক নেই। কারণ শোকগুলো সব সয়ে গেছে, শুকিয়ে গেছে।
সাংবাদিক মিজান মালিক লিখেছেন, আবরার তুমি নিষ্ঠুরতার বলি। বুয়েটের ছাত্ররা মেধাবী হয়। খুনী হয় জানতাম না।’

আফরোজা আলম আশা নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, `এভাবে আরও কত আবরারদের প্রাণ দিতে হবে খোদাই ভালো জানেন।’

শেখ মামুন নামের এক বাবা লিখেছেন, ‘পিটিয়ে মারাই বুঝি এদেশে খুব সহজ কাজ। আহ, সন্তান। কতো স্বপ্ন দেখে বাবা-মা তাদের নিয়ে। কতো কষ্ট করে বড় করে তাদের বাবা-মা। আর কিছুদিন পর আমার ছেলেটাও এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এরপর ভর্তি হবে কলেজে। তারপর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফেইসবুকে একটা স্টাটাস দিলে তাকেও পিটিয়ে মারা হবে? আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এই বাংলাদেশ কি মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন? কোন বাংলাদেশ রেখে যাচ্ছি আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য? মানুষ মারার এই অসভ্য খেলা বন্ধ হোক। অপরাধীর কঠোর শাস্তি হোক। সব হত্যার বিচার হোক ।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান লিখেছেন, কিছু কিছু ছবি আমি দেখতে পারি না। সংবাদ হিসেবে কিছু কিছু পৈশাচিকতার বিবরণ আমি শুনতে চাই না। তবুও নিষ্কৃতি নেই এ সমাজের একজন জীবিত মানুষ হিসেবে। সাত সকালেই দেখতে হলো বুয়েটের কৃতি শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশের ছবি। পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে তরতাজা একটা সম্ভাবনাময় তরুণকে।

সাংস্কৃতিক কর্মী কামরুদ্দিন আরমান লিখেছেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি যখন দেশে ক্যনসার আকার ধারণ করে তখন এসব হত্যাকাণ্ড মামূলি ব্যাপার। হত্যার পর শিবির কর্মী রটিয়ে দিলেই সব ঝামেলা শেষ। যেন এদেশে শিবির মারা আইনগতভাবেই বৈধতা পেয়েছে। মা তুমি অভিশাপ দাও। ধ্বংস হয়ে যাই পুরো জাতি।
তাহমিনা আক্তার নামের একজন লিখেছেন, মতের ভিন্নতা থাকলেই কাউকে মেরে ফেলতে হবে? এ কেমন সংস্কৃতি!

আপনার মতামত লিখুন :