বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : রবিবার ১ নভেম্বর, ২০২০ /

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ঝানজাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরি নিয়ে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এয়াকুব আলী নওয়াবকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি।

শুক্রবার বিকেলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রোববার (০১ নভেম্বর) থেকে এ বরখাস্ত কার্যকর হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করে বিভিন্ন দফতরে অনুলিপি দেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্গাপুর উপজেলার ঝানজাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি বিধিসম্মত নয় এমন (দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়) সনদ দিয়ে ২০১৪ সালে অবৈধ উপায়ে নিয়োগ পান এয়াকুব আলী নওয়াব।

এরপর থেকে অবৈধ পন্থায় সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। ২০০৫ সালের পর থেকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিকে বাতিল ঘোষণা করে সরকার। ওই শিক্ষক ২০১০ সালে দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেন।

২০১৭-২০১৮ সালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তদন্ত প্রতিবেদন দেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক গঠিত নিরীক্ষা কমিটির নয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

আয়-ব্যয়ের যাবতীয় ভাউচার ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিরীক্ষা করে তিন লাখ ৭৮ হাজার ৭৩৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয় প্রধান শিক্ষক এয়াকুব আলী নওয়াবে বিরুদ্ধে। এমনকি ওই অর্থবছরের ব্যয় ভাউচারে কমিটি কর্তৃক কোনো অনুমোদন নেই বলেও নিরীক্ষা কমিটি উল্লেখ করে।

প্রধান শিক্ষকের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে নিরীক্ষা কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন খান বলেন, ২০১৭-২০১৮ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষণ করে অর্থ লোপাটের ঘটনার কাগজপত্রসহ এসএমসি কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছি। প্রতিষ্ঠানের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক।

ঝানজাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির সভাপতি কমর উদ্দিন খান বলেন, এসএমসি কমিটি কর্তৃক গঠিত নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেয়া ডিগ্রি দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অবৈধ ছিল বিধায়; প্রধান শিক্ষক এয়াকুব আলী নওয়াবকে এসএমসির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের কপি প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এয়াকুব আলী নওয়াব বলেন, প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে একটি মহল আমাকে নানাভাবে হেয় করার জন্য পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল। আমি প্রতিষ্ঠানের কোনো অর্থ আত্মসাৎ করিনি। এসব তথ্য ভিত্তিহীন।

আপনার মতামত লিখুন :