বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারদের ওপর চটেছেন কাস্টমস ক্যাডাররা

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : রবিবার ৬ অক্টোবর, ২০১৯ /

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের(এডমিন) ওপর এবার চটেছেন বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট ও বিসিএস ট্যাক্সেশন ক্যাডাররা।

এর আগে ২০১৪ সালে ছাব্বিশ ক্যাডারের ব্যানারে ক্যাডার বৈষম্যের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালনের কারণে এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তাদের মূল দাবি ছিল প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে অন্য ক্যাডার কর্মকর্তারা পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশাসন ক্যাডারের জুনিয়র কর্মকর্তারা অন্য ক্যাডারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের ওপর বসিং করছেন। করছেন বেতন ভাতা ফরমে স্বাক্ষর। যা অপমানজনক।

অন্যদিকে বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত করা হলেও চূড়ান্তভাবে তা নিষ্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ওই ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার প্রশাসন ক্যাডারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছেন কাস্টমস ও ভ্যাট এবং কর্মকর্তারা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্বে নজর না দিয়ে রাজস্ব ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিয়ে টানাটানি করছে। যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অস্থিরতা সৃষ্টির অপতৎপরতা বলে মনে করছেন তারা।

জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে মাদারীপুরের ডিসির দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে আয়করের আওতা বাড়ানোর জন্য জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হলে আয়কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ আয়কর প্রদানে উৎসাহিত হবে।

এ ধরনের প্রস্তাবকে কাস্টমস ও ভ্যাট এবং ট্যাক্সেশন ক্যাডার কর্মকর্তারা অযৌক্তিক, এখতিয়ার বহির্ভূত এবং অর্থহীন দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. নূরুজ্জামান বলেন, আমাদের বক্তব্য লিখিত আকারে পেশ করেছি। তারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ দাবি তুলেছেন। আমরা ন্যায্যতা দাবি করছি। যদি তাদের করের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে সব ক্যাডার বাতিল করে একটি ক্যাডার রাখাই ভালো হবে বলে আমরা মনে করছি।

উল্লিখিত দুইটি ক্যাডারের সংগঠন বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সেলিম আফজাল, কাস্টমস ও ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুর রহমান ও মহাসচিব সৈয়দ মুশফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ওই পত্রে তারা দাবি করেন, সরকার পরিচালনায় এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ২৮টি ক্যাডার সৃজন করা হয়েছে। প্রত্যেক ক্যাডারের নিজস্ব কর্মের পরিধি ও প্রকৃতি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত।

সরকারের রুলস অব বিজিনেস অনুযায়ী সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং এ সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিসিএস ট্যাক্সেশন ও বিসিএস কাষ্টমস অ্যান্ড ভ্যাট ক্যাডারের মাধ্যমে। এ দুইটি ক্যাডারের কর্মকর্তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতি নির্ধারণী নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজস্ব আইনের আওতায় নিজ নিজ অধিক্ষেত্র থেকে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ করে থাকে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ এবং কাষ্টমস আইন ১৯৬৯ অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা এ দুইটি ক্যাডারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :