বীর প্রতিক গাজী আব্দুস সালাম ভুইয়া আর নেই

আবদুল কাদির
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার ১২ আগস্ট, ২০২১ /

.
ময়মনসিংহের নান্দাইলের সাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী আব্দুস সালাম ভুইয়া (৮২) বীর প্রতীক মারা গেছেন।( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বীর প্রতিক গাজী আবদুস সালাম ভূঁইয়ার উপজেলার নান্দাইল গ্রামের শাহনেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি পাক-নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি ১১নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

বুধবার(১১আগস্ট) বিকাল সোয়া ৫ টার দিকে ঢাকার সিএমএইচএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।
বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে নান্দাইলের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাজহারুল হক ফকির বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন।
সুত্র জানায়, ১৯৭১ সালে গাজী আবদুস সালাম ভূঁইয়া পাকিস্তান নৌবাহিনীতে চাকরি করতেন। মার্চ মাসে সেখান থেকে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র পাঠাতে দেখে ২৫ মার্চ পাকিস্তান থেকে কৌশলে বিমানে ঢাকায় আসেন এবং সেই রাতেই পাকিস্তানি সেনারা হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
প্রথমে ভারতে কিছুদিন প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পরে যুদ্ধ করেন ১১ নম্বর সেক্টরে। তিনি একটি কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন।কামালপুর, বকশিগঞ্জ, শ্রীবরদীসহ আরও কয়েক স্থানে যুদ্ধ করেন। ১৫ নভেম্বর কামালপুর যুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের আহত অধিনায়ককে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর ভারত সীমান্ত সংলগ্ন শেরপুর জেলায় মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক ঘাঁটিতে আক্রমণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে পাকিস্তানিদের কামালপুর সীমান্তঘাঁটি দখল করে ঢাকার দিকে রওনা দেন।গাজী আবদুস সালাম ভূঁইয়া সহযোদ্ধাদের নিয়ে দ্রুতই শেরপুরের পৌঁছা মাত্রই আক্রমন করে পাকিস্তানি সেনারা। আবদুস সালাম ও তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালান। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা কিছুক্ষণ পর তারা পালিয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :