ব্রহ্মপুত্রে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকিতে ঘরবাড়ি

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : শনিবার ৬ এপ্রিল, ২০১৯ /

গৌরীপুর নিউজ ডেস্কঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। গত এক মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের অনন্তগঞ্জ ঘাটে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ভেঙে পড়ছে নদের পাড়। পাশাপাশি হুমকিতে রয়েছে নদ তীরবর্তী বাসিন্দারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

অপরদিকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় বৈধ বালু শ্রমিকদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ড্রেজারে উত্তোলন করা বালু স্বল্পমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে বালুশ্রমিকদের কাছ থেকে কেউ বালু কিনছে না। এতে অভাব-অনটনে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে প্রায় শতাধিক বালু শ্রমিকের পরিবার।

শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে অবৈধভাবে নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। উল্টো ড্রেজার মালিক তাদের হুমকি দিচ্ছে।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে ভাংনামারী ইউনিয়নের অনন্তগঞ্জ ঘাটে গিয়ে দেখা যায় প্রায় সারি করে বাঁধা রয়েছে বালু তোলার নৌকা। কাজ না থাকায় নৌকার পাটাতনের উপর মুখ মলিন করে বসে আছে বালু শ্রমিকরা। অপরদিকে ১শ গজ দূরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই বালু পাইপ দিয়ে নদের পাড়ে ফেলা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের কারণে নদের পাড়ের মাটি ভেঙে পড়ছে।

স্থানীয় বালু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বালু শ্রমিকরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে নদ থেকে বালি তুলি। এক নৌকা বালু ২ হাজার থেকে ২৫শ টাকায় বিক্রি করি। কিন্তু অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। এ জন্য গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে বালু কিনতে চায় না। কিন্তু বালু বিক্রি করতে না পারলে আমরা পরিবার নিয়ে চলব কীভাবে?

ব্রহ্মপুত্র নদের বালু শ্রমিক এনামুল হক বলেন, ‘শুধু অনন্তগঞ্জ নয়, এর পাশাপাশি চর নিলুক্ষীয়া এলাকায়ও ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের হুমকি দেয়। প্রশাসন অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমরা শত শত বালু শ্রমিক পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরব।’

শনিবার (৬ এপ্রিল) এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড্রেজার মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি ড্রেজার ভাড়া দেই। উত্তোলনকৃত বালু আমি বিক্রি করি না। তবে মোটা বালু উত্তোলন করার কারণে স্থানীয় বালু শ্রমিকদের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে। তাই আমি আজ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছি।’ তবে এ প্রতিবেদকের কাছে বালু উত্তোলনকারীর নাম বলতে চাননি তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠাচ্ছি।’

আপনার মতামত লিখুন :