ভালুকায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : রবিবার ৩০ জুন, ২০১৯ /

ভালুকায় দুই ব্যক্তি কর্তৃক পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়েছে অস্টম শ্রেণীতে পড়ূয়া এক স্কুল ছাত্রী (১৪)। এ ঘটনায় নির্যাতণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবার জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে রোববার সকালে ভালুকা মডেল থানায় নারী নির্যাতণ দমন আইনে মামলা রুজু হয়।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার কৈয়াদী সোনা উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী ওই গ্রামের হাবিবুর রহমান কিশোরী মেয়ে গত ১৬ জুন সকালে বাড়ি থেকে জগঙ্গলের ভেতর দিয়ে স্থানীয় কায়ানাড়া রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলো। এ সময় একই গ্রামের মৃত জাবেদ আলী ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০) ও ইয়ার মাহমুদের ছেলে রমজান আলী (৩০), পিছন থেকে তাকে জাপটে ধরে জোরপূর্বক জঙ্গলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা কিশোরীর গলায় চাকু ধরে ও এসিড নিক্ষেপের ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। ভয়ে ওই কিশোরী ঘটনাটি বাড়ির কাউকে জানায়নি।

এদিকে গত ২৪ জুন ওই ছাত্রী পরীক্ষা দিতে একই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে উক্ত স্থানে সাইফুল ও রমজান আবারো ধর্ষণের উদ্দেশ্যে জোড়াজোড়ি শুরু করলে কৌশলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে কিশোরীটি বাড়িতে গিয়ে তার বাবা মার কাছে ঘটনাটি জানালে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

নির্যাতণের শিকার কিশোরী জানায়, সাইফুল ও রমজান ১৬ জুনের ঘটনাটির ভিডিও ফেসবুকে ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকী দিয়ে ২৪ জুন আবারো নির্যাতণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু পরে কৌশলে তাদের হাত থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাই।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা হাবিবুর রহমান জানান, বিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় ভয়ভীতিসহ তারা মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরেণের হুমকী দিয়ে আসছে।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, জেলা পুলিশ সুপারের ১৮৭ নম্বর বার্তামূলে রোববার সকালে এ ঘটনায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নম্বর-৬২) দায়ের করে কিশোরীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি থানার ওসি (তদন্ত ) মাজাহারুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়ে আসামী গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :