ভালো নেই সংবাদকর্মীরা

কমল সরকার
প্রকাশিত : সোমবার ৪ মে, ২০২০ /

করেনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে গোটা দেশ অবরুদ্ধ। দিনকে দিন পাল্লা দিয়ে বিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছে। তবুও থেমে নেই দেশের মফস্বল সাংবদিকরা। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে-ঘাটে সারাদিন ছুটে চলেছেন নিউজ সংগ্রহের জন্য। কিন্তু এই করোনা সংকটে তারা ভালো নেই। বেশ কিছু সংবাদকর্মী বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিউজ কভারেজ করলেও পরিবার পরিজন নিয়ে আর্থিক অভাব-অনটনে দিন অতিবাহিত করছে। ঘরবদ্ধ জীবনে চরম আর্থিক অনটনে রয়েছেন তারা। সংবাদকর্মীরা না পারছেন লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রান নিতে’ না পারছেন কারো কাছে কিছু চাইতে। নিম্ন ও বিত্তবানবানদের মধ্যখানে পড়ে যাতাকলে চিপসে যাচ্ছে তারা। এর পরও মানুষের মাঝে দিন-রাত পৌছে দিচ্ছেন সারা উপজেলার খবরা-খবর। খোঁজ রাখছেন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার, খোঁজ রাখছেন কোথায় লকডাউন ব্যাহত হচ্ছে’, কোথায় সন্ধান পাওয়া গেছে সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত রোগী। সেই রোগী কি ঘরে আছে না বাহিরে ঘুরাফেরা করছে জনস্বার্থে তার খবরও রাখছে ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হচ্ছে সেই খবর।

প্রতিদিন জানতে হচ্ছে উপজেলা থেকে করোনার নমুনা কতজনের নেয়া হয়েছে- সেই রিপোর্ট পজেটিভ না নেগেটিভ এসেছে। সাধারণ জনগণ তাদের কাছে জানতে চায় ফলাফল কি হয়েছে? একদিকে কর্মহীন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন সরকারসহ অন্যান্য ব্যাক্তি বা সংগঠন। ফলে এ সকল নিউজ কভারেজ করতে গিয়ে বাড়ছে সাংবাদিকদের করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকির মাত্রা। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে সামাজিক দুরুত্ব বজায় থাকছে না। ফলে শুভানূধ্যায়ীরা সাংবাদিকদের নিয়ে শংকায় আছেন। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই প্রতিদিনই সরকার, বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যাক্তি উদ্যোগে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন। আর সেই নিউজ কভার করার জন্য ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে যেতে হচ্ছে সাংবাদিকদের।

একইসাথে বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সুশৃংখলভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণের পাশে রয়েছেন সাংবাদিকরা। এছাড়াও একাধিক স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে খাদ্য বন্টন কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে। এতে করে সাংবাদিকরা রয়েছেন জীবনের চরম ঝুঁকিতে। যদিও ইতোমধ্যে গৌরীপুরের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ ব্যাক্তিগত ভাবে কয়েকজন সাংবাদিককে পিপিই প্রদান করেছেন। এ পিপিই কতটুকু সুরক্ষা দিবে তাদের তা বলা সময় সাপেক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাংবাদিক বান্ধব বেশ কয়েজনের বক্তব্য হচ্ছে যেভাবে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে কাজ করছেন, এটা অব্যাহত থাকলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। তবে এ আশঙ্কায় বসে নেই গৌরীপুর উপজেলার সাংবাদিকরা।

সাধারণ মানুষ অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তাদের চিন্তা মাথায় রেখেই সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সাংবাদিক মহল। গভীর রাতে খুন হলে ছুটে যায় সাংবাদিক, করোনা ভাইরাসে মারা গেলে ছুটে যায় সাংবাদিক, কোন সংঘর্ষ হলে রাত-বিরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে যায় সাংবাদিকরা। করোনা উপসর্গ নিয়ে অন্য জায়গা থেকে বাড়ী আসছেন সেখানেও রানারের মতো ছুটে যাচ্ছে সাংবাদিকরা। প্রশাসনকেও খবর জানাতে হয় সাংবাদিককে। এরপরও ভাল-মন্দ নিউজ করার জন্য দায়িত্ব পালনে ছুটে চলেছেন অভাবী সাংবাদিকরা। এদের দেখার কেউ নেই। সংবাদকর্মীরা আজ সংসার ধর্ম ফেলে দেশের ক্রান্তিলগ্নে ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথেও কাজ করে যাচ্ছেন সমান গতিতে। এর পরও বলছি’ আপনারা ঘরে থাকুন’ খবর পৌঁছে দিবো আমরা।

আপনার মতামত লিখুন :