ভৈরব স্টেশনে টিকিট কাউন্টার থেকে কম্পিউটার চুরি

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২০

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের কম্পিউটার রুম থেকে একটি কম্পিউটার চুরি হয়ে গেছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক ঘণ্টা টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকে। ওই সময় যাত্রীদের বিনা টিকিটেই ট্রেনে উঠতে হয়েছে। পরে দুপুরের দিকে বিকল্প ব্যবস্থায় একটি কম্পিউটার দিয়ে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ধীর গতিতে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রীদের টিকিট পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

টিকিট কাউন্টারের প্রধান বুকিং সহকারী কিশোর চন্দ্র সাহা জানান, বেসরকারি কোম্পানি সিএনএস কোম্পানির সম্পদ কম্পিউটার ও সার্ভার রুম। তাদের প্রতিনিধি জসীম উদ্দিন এ কম্পিউটার দেখাশুনা করেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সকল রেল স্টেশনের টিকিট বিক্রির সকল যন্ত্রপাতি, সার্ভার, কম্পিউটার তারা সাপ্লাই দিয়ে থাকে। বিনিময়ে তারা প্রতি টিকিটে ৫ টাকা করে পায়। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট বিক্রির জন্য একটি কম্পিউটার রুম রয়েছে। চট্টগ্রামের রেলওয়ে সার্ভার রুম থেকে পূর্বাঞ্চলীয় সকল রেল স্টেশনে সার্ভারের মাধ্যমে কম্পিউটার দিয়ে টিকিট বিক্রি করা হয়।

শুক্রবার সকালে টিকিট বুকিং কাউন্টারের প্রধান গেট খোলা ছিল। রেলওয়ের অবঃ কর্মচারীদের বেতন দিতে প্রধান গেট খোলা ছিল বলে জানায় কিশোর চন্দ্র সাহা। তবে সার্ভার রুম কেন খোলা ছিল তা তিনি বলতে পারেননি। প্রধান গেট খোলার ফাঁকে কে বা কারা কম্পিউটারটি চুরি করল রেল কর্মচারীরা বলতে পারছেন না। সিএনএস কোম্পানির প্রতিনিধি জসীম উদ্দিনের গাফলতিতে এ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে বলে রেল কর্মচারীরা দাবি করেন।

সকালে কম্পিউটার চুরির সঙ্গে সঙ্গে সার্ভারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়লে বিকল্প ব্যবস্থায় হাতে লিখে টিকিট বিক্রি করা হয়। পরে দুপুরের দিকে সিএনএস কোম্পানির প্রতিনিধি জসীম বিকল্প ব্যবস্থায় একটি কম্পিউটার এনে টিকিট বিক্রি সিস্টেম চালু করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে জসীম উদ্দিনকে বার বার মোবাইলে ফোন দিলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কিশোর চন্দ্র সাহা জানান, কম্পিউটার রুমসহ টিকিট বিক্রির সকল যন্ত্রপাতি দেখাশোনার দায়িত্ব সিএনএস কোম্পানির লোকদের। আমি রেল কর্মচারীদের পেনশনের টাকা দেয়ায় ব্যস্ত ছিলাম। বুকিং কাউন্টারে কর্মরত ক্লাকরা টিকিট বিক্রিতে ছিল। এরই ফাঁকে কে বা করা কম্পিউটারটি চুরি করেছে। এতে যাত্রীদের যথাসময়ে টিকিট পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।