মুরগির খামারে মড়ক, কপাল পুড়ল কলেজ শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : সোমবার ১৯ জুলাই, ২০২১ /

পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে মুরগির খামার করেন কলেজ শিক্ষার্থী শামসুজ্জামান দুর্জয় (২২)। কঠোর পরিশ্রম ও পরিচর্যায় তার খামারের মুরগিগুলো দ্রুত বড় হতে থাকে। ঈদের পরপরই মুরগিগুলো বাজারে বিক্রি করে লাভের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্ত হঠাৎ করেই খামারে মড়ক দেখা দিলে মুরগিগুলো মরে যেতে থাকে। এতে করে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন এই শিক্ষার্থী।

শামসুজ্জামান দুর্জয়ের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের ছয়গন্ডা মহল্লায়। তিনি গৌরীপুর সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার জন্য বাড়িতে টুম্পা এগ্রো ফার্ম গড়ে তোলেন দুর্জয়। চলতি বছরের মে মাসের শুরুর দিকে মায়ের কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে ওই ফার্মে ১৭ দিন বয়সী ৬০০ সোনালি জাতের মুরগির বাচ্চা তুলা হয়। প্রায় আড়াই মাস খামারে মুরগিগুলো লালন-পালন ও পরিচর্যা করে বিক্রির উপযোগী করে তুলেন। কিন্ত গত বৃহস্পতিবার থেকে খামারের মুরগিগুলো মাথা ঘুড়িয়ে খিচুনি দিয়ে মারা যেতে শুরু করে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪৫০ টি মুরগি মারা গেছে। বাকি মুরগিগুলো যেকোন সময় মারা যেতে পারে।

শামসুজ্জামান দুর্জয় বলেন খামারে মুরগি তোলার ৭৫ হাজার টাকার মুরগির খাবার বাকিতে এনেছি। ওষুধ বাবদ খরচ হয়েছে আরো ৭ হাজার টাকা। ঈদের পরপরই প্রায় দেড় লাখ টাকায় মুরগিগুলো বিক্রি করার করার ইচ্ছা ছিল। এখন মুরগি মরে যাওয়ায় দোকান বাকি কিভাবে শোধ করবো এটা নিয়ে চিন্তায় আছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল করিম বলেন দুর্জয়ের খামারের মুরগি অসুস্থ হওয়ার পর সে আমাদের সাথে যোগাযোগ না করে দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে প্রয়োগ করেছে। কিন্ত অসুস্থ মুরগিগুলোর অবস্থা জটিল হওয়ায় মারা যেতে থাকে। যেহেতু সে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাই আগামী বরাদ্দে তার সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :