মৃত্যুঞ্জয়ী সংশপ্তক শেখ হাসিনা

হরিদাস ঠাকুর
প্রকাশিত : শনিবার ২১ আগস্ট, ২০২১ /

শেখ হাসিনা একজন অকুতোভয় লড়াকু মানুষ। ভয় শব্দটা তাঁর অভিধানে অনুপস্থিত। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন: ভয় জিনিসটা নাই। ভয় করলে ভয়, না করলে নয়। ভয় করবো কেন? যেভাবে সব নিরীহ মানুষগুলোকে এভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাদের কোন কাজ যদি আমরা করে যেতে পারি। আর যেটা হবে হবেই, এটা বোধহয় খোদাতালার উপর থেকে রহমত হয়ে যায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে প্রদত্ত গণসর্বধনায় তিনি বলেছেন: ‘মৃত্যুভয় আমি করি না। মৃত্যুর আগে মরতে রাজি নই। যতক্ষণ জীবন আছে, বাংলার মানুষের ভাগ্যোন্নোয়নের জন্য কাজ করে যাব। কিছু প্রয়োজন নেই আমার। জাতির পিতার স্বপ্নপূরণই একমাত্র লক্ষ্য।’
শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বার বার ঘাতকরা চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা পারেনি। ফিনিক্স পাখির মতো এক অকুতোভয় সংশপ্তক শেখ হাসিনা প্রতিবারই ঘাতকের বুলেটকে উপক্ষো করে এগিয়ে গেছেন জীবনের দিকে। মৃত্যু ভ্রুকুটি কাটলেও শেখ হাসিনা সে ভ্রুকুটিকে অবলীলায় পাশ কাটিয়েছেন অসীম সাহস আর অদম্য মনোবল নিয়ে। সর্বমোট ২৩ বার শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব হত্যাচেষ্টা সিনেমাকে হার মানায়। এর মধ্যে ২১ আগস্ট ২০০৪ সালে সংঘটিত গ্রেনেড হামলা ছিল জঘণ্য-ঘৃণ্য ও নারকীয়।
ঘটনার সূত্রপাত:
বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এর সন্ত্রাসবিরোধী তথা শান্তি সমাবেশে ট্রাকের উপর স্থাপিত মঞ্চে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা হয়।
টার্গেট:
২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট সংগঠিত নারকীয় হত্যাকা- ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকান্ডেরর ধারাবাহিকতায় সেই সময়ের অসমাপ্ত হত্যাকান্ড শেষ করা।
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ:
সেদিনের ভয়াবহ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাটির বিবরণ দিয়েছেন এভাবে:‘ ঘটনাটি ছিল জাতির ইতিহাসে এক ভয়ংকর নাটকীয়তা। ঘটনাটি ঘটার দুই ঘন্টা পর আমি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর অকুস্থলের কাছাকাছি গিয়ে দেখেছি এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। রাস্তার মধ্যে রক্ত এবং শত শত স্যান্ডেল। তারপর সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি ও শুনেছি আহত ব্যক্তিদের আর্তনাদ। আওয়ামী লীগ ও ছাক্রলীগের আমার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতাও মারাত্মক জখম হয়েছিলেন।’
গ্রেনেড হামলায় যাঁরা নিহত হন:
শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও মারা যান ২৪ জন নেতাকর্মী; অহত ৪০০ জন নেতাকর্মী,সাংবাদিক, পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী।
(১) আইভি রহমান-আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
(২)মোস্তাক আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক।
(৩)মাহাবুব রশীদ, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী।
(৪)রফিকুল ইসলাম আদা চাচা,মহানগর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা।
(৫)সুফিয়া বেগম-মহানগর আওয়ামীলীগের(দক্ষিণ) কর্মী।
(৬)হাসিনা মমতাজ-১৫ নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি
(৭)লিটন মুন্সী-মাদারীপুর যুবলীগের নেতা।
(৮)রতন সিকদার-ব্যবসায়ী।
(৯)মুক্তিযোদ্ধা হানিফ-ঢাকার ৩০ নং ওয়ার্ডের শ্রমিক নেতা।
(১০) মামুন মৃধা-সরকারি কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র
(১১)বেলাল হোসেন-যুবলীগের সহসম্পাদক।
(১২)আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী-স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মী।
(১৩) আমিনুল ইসলাম-যুবলীগের কর্মী।
(১৪) আতিক সরদার-যুবলীগের কর্মী।
(১৫)নাসিরউদ্দিন সরদার-শ্রমিক লীগের কর্মী।
(১৬)রেজিয়া বেগম-মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য।
(১৭) আবুল কালাম আজাদ-ঢাকার বালুঘাট ইউনিয়ন আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
(১৮) ইছহাক মিয়া-আওয়ামীলীগের কর্মী।
(১৯)শামসুদ্দিন-আওয়ামীলীগের কর্মী।
(২০)আবুল কাসেম- আওয়ামীলীগের কর্মী।
(২১)জাহেদ আলী- আওয়ামীলীগের কর্মী।
(২২)মমিন আলী- আওয়ামীলীগের কর্মী।
অস্ত্র সরবরাহ:
সব ষড়যন্ত্র-বাস্তবায়নের পেছনে হাওয়া ভবন-আর্জেস গ্রেনেড সরবরাহ করে পাকিস্তান-আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূণ্য করতেই গ্রেনেড হামলা-বাস্তবায়নে অংশ নেয় শীর্ষ জঙ্গীসহ পাকিস্তানে ট্রেনিংপ্রাপ্তরা।
ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ:
(১) বিএনপির শীর্ষ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২১ আগষ্ট হত্যাকান্ড সম্পর্কে গণমাধ্যমে বলেছিলেন- ১৫ আগষ্ট ও ২১ শে আগষ্টের ঘটনা ছিল নিছক দুর্ঘটনা।
(২) ২১ আগষ্ট নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য সংসদে আলোচনা করতে চাইলে স্পিকার ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার সেই আলোচনা করার অনুমতি দেননি।
(৩) কয়েকজন বিএনপির সদস্য ফ্লোর নিয়ে বলেছিলেন-এই গ্রেনেড হামলা আওয়ামী লীগই সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে করেছে।
(৪) কোনো কোনো সংসদ বলেছিলেন, গ্রেনেডগুলো শেখ হাসিনা তাঁর ব্যাগে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
(৫) বিচারপতি জয়নাল আবেদিনকে নিয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হলে কমিটি প্রতিবেদনে বলেন যে, একটি বন্ধু রাষ্ট্র ও তাঁর গোয়েন্দা সংস্থা (ভারত ও র) এ হত্যাকাণ্ডেরর জন্য দায়ী। এ জয়নাল আবেদিন একসময় জয়পুর হাট বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
(৬) ২৪ জনের মৃত্যু হয় গ্রেনেডের আঘাতে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। খালেদা জিয়া তাঁকে দেখতে গেলে আইভি রহমানের পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রাথা হয়। এটি ছিল নির্দয় ও অমানবিক আচরণ।
(৭) শেখ হাসিনা বেঁচে গিয়েছিলেন দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করার কারণে। ঘটনার পর যখন ঘটনার পর তাকে বহনকারী জিপগাড়িটি যখন ঘটনাস্থল ত্যাগ করছিল, তখন তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং গুলি থেকে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হন তাঁর দেহরক্ষী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মাহবুব।
(৮) ঘটনার পর পুলিশ আহতদের সাহায্য না করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ আর লাঠিচার্জ করে।
(৯) আহতদের ঢাকা মেডিক্যালে আনা হলে সেখানে কোনা ডাক্তার ছিল না। কারণ আগে থেকেই তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছিল। অপারেশন থিয়েটারগুলো ছিল বন্ধ।
(১০)গুলশানে জেড এইচ শিকদার হাসপাতালে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছিল। সরকার তাদের সেখান থেকে বের করে দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেছিল।
(১১) রাতে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা সব আলামত নষ্ট করতে পুরো এলাকাকে ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়া:
(১) ১৪ বছর পর রায় হয় ১০ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে।
(২)মোট আসামী ৪৯। মৃত্যুদন্ড- ১৯ জন; যাবজ্জীবনকারাদন্ড- ১৯ জন। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ১১ জনের। পলাতক ১৮ জন।
(৩) ঘটনা প্রবাহ:
(ক) হামলা-২১ আগষ্ট,২০০৪; বিকাল ৫.৪০ মিনিট।
(খ) মামলা-২২ আগষ্ট, ২০০৪ ( মতিঝিল থানা)
(গ) প্রথম চার্জশিট-১১ জুন, ২০০৮ ( আবদুস সালাম পিন্টু ও হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জন আসামী।)
(ঘ) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ-৩ আগষ্ট, ২০০৯।
(ঙ) সম্পূরক চার্জশিট- ৩ জুলাই ২০১১।
(চ) অভিযোগ গঠন- ১৯ মার্চ, ২০১২।
(ছ) সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ-১১ অক্টোবর ২০১৭।
(জ) যুক্তিতর্ক শুনানী শুরু-২৩ অক্টোবর ২০১৭।
(ঝ) রায় প্রদান-১০ অক্টোবর, ২০১৮।
(৪) তদন্ত কর্মকর্তাঃ
(ক) প্রথমে মতিঝিল থানার এসআই আমির হোসেন।
(খ) ডিবির এসআই শামসুল ইসলাম।
(গ) সিআইডির এএসপি-আবদুর রশিদ ও মুন্সী আতিকুর রহমান।
(৫) সাক্ষী-৫১১ জন। সাক্ষ্যগ্রহণ -২২৫ জন।
(৬) আসামী-তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আলী আহসান মুজাহিদ, হানিফ পরিবহনের হানিফসহ ৪৯ জন।
আদালতের পর্য়বেক্ষণ:
রাজনীতি মানে বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ হতে পারে না। এ রাজনীতি দেশের জনগণ চায় না। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে শত শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা হতে পারে না। এটা হলে মানুষ রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়বে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদারনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বিরোধী নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়।
আদালতের রায়:
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একটি হত্যা, অপরটি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে। এরপর বিচার শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ঘটনার সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর (খালেদা জিয়া) রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি মামলায় তাঁদের অভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে। এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা অনুমোদনের জন্য ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। এরপর কারাবন্দি আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এ অবস্থায় বিজি প্রেসে পেপারবুক প্রস্তুত করার পর তা সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়।
হত্যা মামলায় ১৪ জঙ্গিসহ ১৯ জনকে ফাঁসির দণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ১৯ জনকে ফাঁসি এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই ৩৮ জনকে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের অন্য ধারায় ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই মামলায় আলাদাভাবে সাজা দেওয়া হলেও তা একযোগে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত ৪৯ আসামির মধ্যে ১৮ জন পলাতক। পলাতকদের মধ্যে দুইজন ফাঁসির আসামি, ১২ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আর অন্যান্য মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি রয়েছেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলা (ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল) হাইকোর্টে শুনানির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে মর্মে জানা যায়। এরই মধ্যে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এখন নিয়ম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। কবে নাগাদ এই বেঞ্চ নির্ধারিত হবে তার পুরো এখতিয়ার প্রধান বিচারপতির। বেঞ্চ নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন দেবে। এ মাসেই এই আবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আমরা আশা করছি দ্রুতই সকল আইনী প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়ে রায়ি যথাযথভাবে কার্যকর হবে।
বিচার সংস্কৃতি:
২১ আগষ্টের নৃশংস ঘটনার বিচার বাংলাদেশের বিচার সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ সংস্কৃতিতে আমরা ঐতিহাসিক চারটি বিচারের রায় দেখতে পাই। এগুলো হলো-(১)বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও রায়; (২) জেল হত্যা মামলা ও রায়; (৩) একাত্তরের মানবতাবিরোধী (একাধিক মামলা) মামলা ও রায়; (৪) ২১ আগষ্টের হত্যামামলা ও রায়।
মৃত্যুকে পায়ে দলে এগিয়ে যাওয়া অকুতোভয় সংগ্রামী শেখ হাসিনা ভালোবেসেছেন দেশকে-দেশের মানুষকে-বিশ্বের শান্তি প্রত্যাশায় করেছেন বিশ্ববাসীর সাথে একাত্ম হয়েছেন। দেশের জনগণ এবং বিশ্বনেতৃবৃন্দও বুক উজার করে শেখ হাসিনাকে ভালোবাসা বিলিয়ে দিয়েছেন। আজকের দিনে আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ুসহ কর্মোজ্জ্বল জীবন কামনা করি।

লেখক : উপ-সচিব
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, ঢাকা।

আপনার মতামত লিখুন :