মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেলেন অগ্নিদগ্ধ বিদ্যুৎ শ্রমিক হবি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২০ /

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পিডিবির কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার অগ্নিদগ্ধ বিদ্যুৎ শ্রমিক হাবিবুর রহমান হবি (৫০) সাত দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত পৌনে ৯ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থার তার মৃত্যু হয়। পরদিন শনিবার বেলা ১১ টায় জানাযা নামাজ শেষে এ উপজেলার তাঁতকুড়া এলাকায় পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
হাবিবুর রহমান হাবিবুর রহমান হবি গৌরীপুর বিদ্যুৎ অফিসে দৈনিক মজুরী ভিত্তিক চুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন। দুর্ঘটনায় তার অকাল মৃত্যুতে গৌরীপুরে সর্বমহলে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে গৌরীপুর পিডিবির কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুমে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলাকালীন বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে বিদ্যুৎ শ্রমিক হাবিবুর রহমান হবি অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অগ্নিকান্ডে তার শরীরের প্রায় ৫০ ভাগ চামড়া আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। অগ্নিদগ্ধ হবিকে এদিন প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে সাত দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শুক্রবার রাতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরন করেন।

এদিকে হবির এ অনাকাঙ্কিত মুত্যর জন্য গৌরীপুর আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী (আর ই) নিরঞ্জন কুন্ডুকে দায়ী করে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ বলেন, গৌরীপুর বিদ্যুৎ অফিসের কন্ট্রোল রুমে রক্ষানাবেক্ষণের কাজের দায়িত্ব হবির নয়। এ কাজের জন্য আলাদাভাবে জনবল নিয়োগ রয়েছে। ঘটনারদিন আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর নির্দেশে কন্ট্রোল রুমে কাজ করতে গিয়ে হবি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অবশেষে প্রাণ হারান।

তিনি বলেন, গৌরীপুরে ইতিপূর্বে বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক আরও কয়েকজন স্থানীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক পঙ্গুত্ববরন করে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের খোঁজখবর এখন আর কেউ রাখেন না।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর বিদ্যুৎ খাতে সরকার শত শত কোটি টাকা ভূর্তুকি দিচ্ছেন। এছাড়া সিস্টেম লস দেখিয়ে কিছু কিছু কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন। অথচ রোড লেবেল পর্যায়ে যারা কাজ করছে তাদের নিম্নতম পারিশ্রমিকও দেওয়া হচ্ছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা মানুষের জীবনকে সচল রাখছে, উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখছে সরকারের উচিত তাদের জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক ও ঝুঁকিভাতার ব্যবস্থা করা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর আবাসিক প্রকৌশলী নিরঞ্জন কুন্ডু সাংবাদিকদের জানান, হাবিবুর রহমান হবি বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের নিয়োগপ্রাপ্ত কোন কর্মী ছিলেন না। কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি বিদ্যুৎ অফিসে দৈনিক মজুরীতে বিভিন্ন কাজ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাকে মিটার পাঠক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, ঘটনার দিন কন্ট্রোল রুমে ময়মনসিংহ থেকে আসা প্রকৌশলীদের সঙ্গে ডিজেল সাপ্লাই ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহযোগিতা করছিলেন হবি। কিন্তু পরিস্কারের সময় কখন যে তিনি মেশিনের ভিতর প্রবেশ করেন এ বিষয়টি কেউ খেয়াল করেননি। এসময় হবি বিদ্যুৎ তাড়িত হয়ে অগ্নিদগ্ধ হন।
তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনার সময় আগুন ও ধোঁয়া দেখে সবাই দৌড়ে নিরাপদে চলে গেলেও তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হবিকে মেশিনের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছিলেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :