মেধাবী ছাত্রী তিথী নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল গৌরীপুর

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে সোমবার সকালে ট্রাক চাপায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী তিথী নিহত হওয়ার ঘটনায় এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্দ স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও লোকজন। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন। তিথী হত্যার ঘটনায় ট্রাক চালকের ফাঁসি দাবি করে এসময় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে নানা স্লোগান দেন তারা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ প্রতিবাদ কর্মসূচীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে গৌরীপুর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে মানববন্ধন করেন পৌর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

মিছিল শেষে গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রতিবাদ সমাবেশে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে বক্তব্য দেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল আলম, গৌরীপুর আর.কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফা খাতুন, পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামূল হক সরকার, অগ্রদূত নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ম.নুরুল ইসলাম, নরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে উপস্থিত হন গৌরীপুর থানার ওসি মোঃ বোরহান উদ্দিন। এসময় তিনি এ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে তিথীর মা রীতা রানী পাল মেয়েকে হারিয়ে সকালে গগন বিদারী আহাজারীর পর বর্তমানে নির্বাক হয়ে ঘরে বসে আছেন। তিথীর বাবা রঞ্জন কুমার পালও মেয়ের শোকে কারো সাথে কোন কথা বলছেন না।

তিথীর শিক্ষক গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রোজী সুলতানা জানান, রীতা রানীর দু’মেয়ের মধ্যে তিথী হচ্ছে ছোট। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিথী স্থানীয় একটি সংগীত বিদ্যালয়ে সংগীতের চর্চা করতো।

দুর্ঘটনার পর সকালে রোজি সুলতানা তিথীর মাকে সান্তনা দিতে তাদের বাসায় গেলে কথা হয় তিথীর মায়ের সঙ্গে। এসময় রীতা রানী মেয়ের স্মৃতি তুলে ধরে বিলাপ করতে করতে বলেন, ঘটনার দিন ভোর ৭টার সময় বিস্কুট ও গরম পানি খেয়ে তিথী কোচিংয়ে ক্লাসের উদ্দেশ্যে বের হয়। কয়েক মিনিট পর তিনি দুর্ঘটনার খবর পান।

এদিকে সকাল থেকেই পৌর শহরের মধ্য বাজারে তিথীর বাসার সামনে স্থানীয় লোকজন ভীড় করে রাখে। বিকেল দিকে হাসপাতাল থেকে তিথীর মরদেহ আসার অপেক্ষায় লোকজন আরো বেশি ভীড় করতে শুরু করে।

বিকেল পৌনে ৫ টায় তিথীর মরদেহ গৌরীপুরে তার নিজ বাসার সামনে পৌঁছে। সন্ধ্যা ৬টায় গৌরীপুর পৌর শ্মশানে তার অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া শুরু হয়। স্থানীয় শত শত লোক তিথীর অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন।