মেয়েকে হত্যার পর মায়ের বিষপানে আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : বুধবার ১৮ আগস্ট, ২০২১ /

কুষ্টিয়া জেলার শার্শা উপজেলায় কন্যা শিশু আঁখি মনি(৬) কে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মা সুমি খাতুন (২৭) বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের শুড়ারঘোপ গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
মৃত সুমি খাতুন ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সুমি খাতুনের ভাই মাহমুদুল হাসান মাসুদ জানান, আঁখি মনির জন্মের পরে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। শিশু কন্যাকে নিয়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানতে পারি, তারা মা-মেয়ে বিষপান করেছে। তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মা-মেয়েকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. আব্দুর রশিদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু আঁখি মনির মৃত্যু হয়েছে। তার মা সুমিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থা তারও মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিশু কন্যাকে বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ দুটি হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সুমির মামা কামরুজ্জামান জানান, সুমিকে ফের বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পিতা সিরাজুল ইসলাম চেষ্টা করেন। কিন্তু মেয়ে আছে জানার পাত্র পর বিয়ে করতে নারাজ হয়। সুমিও মেয়ে ছাড়া বিয়ে করতে চায় না। এই নিয়ে সুমির বাবা ও পরিবারের সঙ্গে কলহ চলে আসছিল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুমি তার মেয়ে আঁখি মনিকে ভাত খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় বাবা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সুমি বাড়িতে থাকা ঘাস মারার বিষ ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে আঁখিকে খাওয়ানোর পর নিজেও খেয়ে আত্মহত্যা করে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান জানান, মা- মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :