মোহনগঞ্জে উন্মুক্ত জলাশয় ইজারা দিলো প্রভাবশালীরা

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার ১৪ নভেম্বর, ২০২০ /

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের শ্যামপুর গ্রামের একটি উন্মুক্ত কুড় ইজারা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

গত ৪ নভেম্বর ওই গ্রামের লিটন তালুকদারসহ কয়েকজন মিলে এ বিষয়টি অবগত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। এতে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালে আদালতের রায়ে শ্যামপুর কুড়টি জনগণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই গ্রামের কিছু প্রভাশালী মিলে একটি কমিটি বানিয়ে এটি ইজারা দিয়ে সেই অর্থ এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করার কথা বলে আত্মসাৎ করে আসছে। প্রায় পাঁচ শতাংশ জায়গা এই কুড়টি চলতি বছরে দশ লাখ দশ হাজার টাকায় ইজারা দিয়ে সেই অর্থ নিজেরাই ভাগ করে নিয়ে যায়। প্রভাবশালীদের কবল থেকে এটি উদ্ধার করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর ওই কুড়টি ইজারা নিয়েছেন শ্যামপুর গ্রামের মাসুম আহমেদ নামে এক ব্যক্তি।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে মাসুম আহমেদ বলেন, অভিযোগকারী লিটন তালুকদার নিজেই একটা বাটপার টাইপের লোক। গত দুই বছর লিটন গ্রামের সবাইকে নিয়ে কুড়টি ইজারা দিয়েছিলেন। সেইসাথে টাকা পয়সার হিসাব রাখার ক্যাশিয়ারও ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে ৮ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছিল।

তার মধ্যে বিভিন্ন অফিসে ঘুষ দেয়া হয়েছে, বিভিন্ন নয়ছয় খরচ দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে লিটন। বাকি চার লাখের হিসেবে বুঝায়। পরের বছর ২০১৯ সালে ৬ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হলে আবারো নানা বাহানায় ২ লাখ খরচ দেখায়। বাকি চার লাখ থেকে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা তার কাছে এখনো পাওনা রয়েছে। টাকা মেরে দিয়ে সেই থেকে তিনি এলাকায় থাকেন না, থাকেন মোহনগঞ্জে।

চলতি বছরে তার জন্যেই কুড়টি সাড়ে চার লখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। কারণ পানি কমে যাচ্ছে তাকে ৪-৫ বার এলাকায় ডাকা হয়েছে। হিসেব দিতে হবে ভয়ে যাননি তিনি। শেষে পানি কমে যাওয়ায় কম দামে ইজারা দেয়া হয়েছে। তাকে লুটপাটের সুযোগ না দেয়ায় এবার তিনি তার কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

কুড়টি সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই গ্রামের লোজন মিলে ইজারা দিয়ে আসছে। ইজারা থেকে পাওয়া টাকা এলাকা উন্নয়ন কাজেই ব্যবহৃত হয়। গ্রামের সবাই মিলেই এটা করে। সে কারণে কখনো কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। কুড়টি রক্ষাসহ এলাকার ফসল রক্ষায় প্রতি বছর তিনটি বাঁধ দিতে হয়। সরকারি সাহায্যের আশায় থাকলে এলকার ফসল শেষ হয়ে যাবে। তাই ইজারার টাকা দিয়ে এলাকবাসী ওই বাঁধগুলো দেয়। বাকি টাকা গ্রামের মসজিদে দেয়া হয়।

অভিযুক্তদের অন্যএকজন আতিকুল আলম আতিককে প্রশ্ন করা হলে তিনিও একই কথা বলেন। গত দুই বছর আপিন ইজারার পক্ষের লোক ছিলেন। এমনিকি ইজারার টাকা ঠিক মতো বুঝিয়ে দেননি। ওই সময়ের এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা আপনার কাছে পাওয়া রয়েছে। এমন সব প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি অভিযোগকারীর লিটন তালুকদার।

এ বিষয়ে গাগলাজুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ওই কুড়টি ইজারা না দেয়ার জন্য পহেলা নভেম্বর ভূমি অফিস থেকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা জেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়ে মৎস্য কর্মকর্তাতে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। প্রতিবেদন পেলে যথাযত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আ.ন.ম. আশরাফুল কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমি এখনো তদন্তে যাইনি, তবে শিঘ্রই যাব।

আপনার মতামত লিখুন :