ময়মনসিংহের প্রভাষক সোমা এখন উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : বুধবার ১৪ জুলাই, ২০২১ /

ময়মনসিংহ নগরীর সেন্ট্রাল প্রাইম কলেজের প্রভাষক সোমা চক্রবর্তী। করোনার প্রকোপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা হলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন তিনি। বিধিনিষেধের মধ্যে ঘরবন্দি সময়টুকু কাজে লাগাতে ফেসবুকে পেজ খোলে অনলাইনে পণ্য বিক্রি শুরু করেন এই নারী প্রভাষক। শুরুর দিকে লাভের মুখ না দেখলেও এখন ঘরে বসে ভালো আয় করছেন তিনি।

সোমা চক্রবর্তীর বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। তবে পড়শোনা ও চাকরির সুবাধে পরিবার নিয়ে বসবাস ময়মনসিংহ নগরীর গার্লস স্কুল রোড এলাকায়। তার বাবা সুদীপ চক্রবর্তী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। মা শুক্লা চক্রবর্তী গৃহিণী। তিন ভাই বোনের মধ্যে সোমা সবার ছোট।

আনন্দ মোহন কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করার পর ২০১৭ সালে নগরীর প্রাইম সেন্ট্রাল কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন সোমা। শিক্ষকতার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হবেন এমনটা ভাবনায় ছিল না। কিভাবে হয়ে গেলেন সেই গল্পটা শোনা গেলে তার মুখ থেকেই।

সোমা চক্রবর্তী বলেন, অনলাইনে ব্যবসা করার পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল না। ই- কমার্স সাইট ‘উই’ এর কার্যক্রম দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে করোনাকালীন ঘরবন্দি সময়টা কাজে লাগাতে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা জাগে। বিষয়টা বড় ভাই রাজীব চক্রবর্তীকে জানালে উনি পরিবারের সবাইকে বুঝিয়ে বলেন। পরে সবাই সম্মতি দেয়।

২০২০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ফেসবুক পেজ খোলে অনলাইনে পণ্য বিক্রি শুরু করেন সোমা। তার পণ্য বিক্রির ফেসবুক পেজের নাম ‘Soma’s Collection’। এখানে দেশীয় শাড়ি, থ্রি পিস, লুঙ্গি, বেডশিট, বেবি ড্রেস, কাস্টমাইজ মেক্সি ও কাঠের গহনা বিক্রি হয়।

অনলাইনে পণ্য বিক্রির অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ না থাকায় ব্যবসা শুরুর দিকে প্রচারণায় একটু পিছিয়ে ছিলেন। পরে বান্ধবী ইথার খান ও ই-কমার্স সাইট ‘লিব’ গ্রুপের অ্যাডমিন সাঈদ মাহমুদ হোসাইনের পরামর্শ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে নিজের পেজ ও পণ্যের প্রচার শুরু করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে তার ব্যবসার পরিচিতি ও পণ্য বিক্রি বাড়তে থাকে। গত ছয় মাসে ঘরে বসে তিনি ৩ লাখ টাকার ওপরে পণ্য বিক্রি করেছেন।

করোনায় কলেজ বন্ধ থাকলেও দিনের বেলা অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান সোমা চক্রবর্তী। সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সময় দেন নিজের ফেসবুকে পেজে। এসময় পণ্যের প্রচার ও বিক্রির জন্য ফেসবুকে ছবি পোস্ট ও লাইভ করেন। পরে যে অর্ডার পান সেগুলো কুরিয়ারে বিকাশ ও ক্যাশ অন ডেলিভারিতে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে জেলা শহরে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয় ডেলিভারি ম্যান দিয়ে।

সোমা চক্রবর্তী আরও বলেন, অনলাইনে সহজে পণ্যের প্রচার ও প্রসার করা যায়। শিক্ষকতার পাশাপাশি অনলাইনে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পণ্য বিক্রি করে বাড়তি আয় করছি। এখন পরিকল্পনা করছি ব্যবসার পরিধি বাড়ানো ও শহরে একটি বুটিক শোরুম খোলার।

আপনার মতামত লিখুন :