ময়মনসিংহে ঝুঁকিতে ব্রহ্মপুত্র রেল-ব্রিজসহ ৩টি ব্রিজ

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : বুধবার ২৬ জুন, ২০১৯ /

ময়মনসিংহে ঝুঁকিতে রয়েছে শতবছরের পুরনো ব্রহ্মপুত্র রেলব্রিজসহ বেশ কয়েকটি রেলব্রিজ। এ অঞ্চলের বড় তিনটি ব্রিজের দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বেশিরভাগ কাঠের স্লিপার নষ্ট হয়ে গেছে এবং লাইনের নাট-বল্টু চুরিসহ খসে পড়ায় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এই ব্রিজগুলো।

সম্প্রতি সিলেটের কূলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে রেলওয়ে কৃর্তপক্ষ।

তবে কৃর্তপক্ষের দাবি, ময়মনসিংহ সাব ডিভিশনে ট্রেন চলাচলে কোনো ঝুঁকি নেই। যদিও এই অঞ্চলের বড় তিনটি ব্রিজের বেশ কিছু স্লিপার ও নাট-বল্টু নষ্ট হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বরাদ্দ চাওয়াসহ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনটি উদ্বোধনের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সাব-ডিভিশনের আওতায় ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা, ভৈরব, মোহনগঞ্জ, জারিয়া-ঝাঞ্জাইল ও জামালপুরসহ ৫টি রেলপথ চালু করা হয়।

ময়মনসিংহ সাব ডিভিশনের ময়মনসিংহ-শ্রীপুর সেকশনে ৯২টি, ময়মনসিংহ-বিদ্যাগঞ্জ সেকশনে ৩২টি, ময়মনসিংহ-গৌরপুর সেকশনে ২৭টি, গৌরীপুর-আঠারোবাড়ি সেকশনে ২৭টি, গৌরীপুর-মোহনগঞ্জ সেকশনে ৮২টি, শ্যামগঞ্জ-জারিয়া সেকশনে ২৫টিসহ সর্বমোট ২৮৫টি ছোট-বড় ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে।

এরমধ্যে ময়মনসিংহ শহরঘেষা ব্রহ্মপুত্র নদের উপর প্রায় ৯’শ মিটার ব্রহ্মপুত্র রেলওয়ে ব্রিজ, ময়মনসিংহ-ঢাকা রেলপথে গফরগাঁওয়ের কাউরাইদ শীলা নদীর উপর শীলা ব্রিজ এবং ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেলপথের ঠাকুরাকোণা কংস নদীর উপর রেল ব্রিজটি সবচেয়ে বড়।

ব্রহ্মপুত্র রেলওয়ে ব্রিজটি স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পুণ:সংস্কার করা হয়। এরপর আর তেমন কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির ৬৬২টি স্লিপারের মধ্যে বেশিরভাগ কাঠের স্লিপার ভেঙ্গে গেছে, নাট-বল্টুগুলো খসে পড়েছে। আবার রাতের আধাঁরে লাইনের বিভিন্ন ফিটিংস সামগ্রী চুরিও হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পুরনো এই ব্রিজটি।

এমনকি এই ব্রিজটিতে নেই কোনো রেলিং বা সেইফ গার্ড। সর্বসাধারণের যাতায়াত নিষিদ্ধ থাকলেও শুরু থেকেই শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে এই ব্রিজের উপর দিয়ে। আকস্মিক ট্রেন চলে এলে বিপাকে পড়ে যাতায়াতকারীরা। দেখার যেন কেউ নেই।

ব্রহ্মপুত্র রেলওয়ে ব্রিজটির পাশেই শম্ভুগঞ্জ স্টেশনের কাছে আরো একটি ছোট ব্রিজ রয়েছে। ‘কোরেরপাড়’ নামক এই ব্রিজটি ৮৮’র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে সেটি ফের সংস্কার করা হয়।

এদিকে কেওয়াটখালী ওভারব্রিজটিও ঝুঁকির মধ্যে। ওভারব্রিজটির বেশিরভাগ স্লিপার জরাজীর্ণ। নাট-বল্টু খসে পড়েছে। কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে এই দুটি ব্রিজ ও একটি ওভারব্রিজ ব্যবহার করে প্রতিদিন চট্টগ্রাম, ভৈরব, মোহনগঞ্জ ও জারিয়া-ঝাঞ্জাইলগামী ৪টি আন্ত:নগরসহ বেশ কয়েকটি লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এ অঞ্চলের ট্রেন যাত্রীরা।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের উপর বেশিরভাগ স্লিপার নষ্ট হয়ে গেছে। রাতে নেশাখোররা নাট-বল্টুসহ মূল্যবান ফিটিংস সামগ্রী খুলে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায়ই ট্রেন চলাচলের সময় ঘর্ষণে আগুন জ্বলে যায়। রেলওয়ের লোকজন দেখেও উদাসীন।

এছাড়া ময়মনসিংহ-ঢাকা রেলপথের শ্রীপুর পর্যন্ত ময়মনসিংহ সেকশনে ২৯টি ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে। এরমধ্যে গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ও কাউরাইদের মাঝখানে শিলা নদীর উপর কাউরাইদ ব্রিজ (রেলওয়ের ১২৭নং ব্রিজ) এবং গফরগাঁও ও মশাখালী স্টেশনের মাঝখানে বাসুটিয়া ব্রিজটি (রেলওয়ের ১৪১নং ব্রিজ) দুটি ঝুঁকিপূর্ণ।

কাউরাইদ ব্রিজটি বছর চারেক আগে মেরামত করা হয়। আর বাসুটিয়া ব্রিজটি সর্বশেষ ২০০৭ সালে সংস্কার করা হয়। বর্তমানে ব্রিজ দুটির নানা ক্রুটি রয়েছে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) সুকুমার বিশ্বাস জানান, এই সাব ডিভিশনে ক্রুটিযুক্ত কোনো ব্রিজ-কালভার্ট নেই। সবগুলো ব্রিজ-কালভার্ট ট্রেন চলাচলের উপযোগী রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি। কাঠের স্লিপার নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ নাট-বল্টু ও অন্যান্য ফিটিংস সামগ্রী চুরি বা খসে পড়ার কথা স্বীকার করে সুকুমার বিশ্বাস বলেন, মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন :