ময়মনসিংহে ধর্ষণের অভিযোগে নারীসহ গ্রেপ্তার ২

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার ১৩ জুলাই, ২০১৯ /

ময়মনসিংহে নানির বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক যুবতী। ধর্ষণের শিকার ওই যুবতী পাশের এক নারীকে মা ডেকেও রেহাই পাননি। ওই নারী যুবতীকে ধর্ষকদের হাতে তুলে দেয়।

এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের মূলহোতা উজ্জ্বল ও হাছিনা আক্তার নামে দুইজনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

কোতোয়ালি পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, সদরের অষ্টধার এলাকার এক যুবতী পাশের শেরপুর জেলার নকলার নারায়ণপুরে তার নানির বাড়ি থেকে গত বুধবার বিকালে বাড়ি ফিরছিল। সন্ধ্যায় অষ্টধার পান্ডাপাড়া এলাকায় আসামাত্র কাউনিয়া গ্রামের উজ্জ্বল তার পথরোধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। উপায়ান্তর না পেয়ে ওই যুবতী নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়ে স্থানীয় চৌকিদার ফুরকানের বাড়িতে উঠে।

এ সময় চৌকিদার ফুরকানের স্ত্রী হাছিনা আক্তারকে মা বলে ডেকে ধর্ষকদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হাতে পায়ে ধরে কাঁদতে থাকে। নারী হয়ে হাছিনা আরেক যুবতীর সম্ভ্রম রক্ষায় কোন উদ্যোগ না নিয়ে পাল্টা ওই যুবতীকে তার ভাগিনা হিমেলের হাতে তুলে দেয়।

পুলিশ জানায়, হিমেল পেছন দরজা দিয়ে ওই যুবতীকে বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। সবকিছু হারানো ওই যুবতী এরপরও দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আবারো উজ্জ্বল তার পথরোধ করে। এ সময় উজ্জ্বল, মনি ও হিমেল তাকে জনৈক হেলালের বসতবাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে।

অসহায় ওই যুবতী বৃহস্পতিবার ভোরে কোনরকমে নিজ বাড়ি ফিরে এবং মা-বাবাসহ পরিবারের লোকজনের কাছে ঘটনা খুলে বলে।

বৃহস্পতিবার ওই যুবতী তার মা বাবাসহ পরিবারের অন্যদের নিয়ে থানায় যান।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তাৎক্ষণিক নির্যাতিতাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্যাতিতা যুবতীর পিতা পাঁচজনের নামে থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

আপনার মতামত লিখুন :