ময়মনসিংহে পুরাতন প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা!

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ /

ময়মনসিংহ উপজেলার ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও শাঁকচুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র গফরগাঁও-২ (কেন্দ্র কোড- ১২৬) এর অধীনে মহিলা কলেজ ব্লকে ৩০২ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এসএসসি শিক্ষার্থীদের সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষায় ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের নজরে আসে যে ২০১৮ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। পরে সাথে সাথে তারা নতুন উত্তরপত্র বিতরণ করে। সময় বাকী ১০ মিনিট শিক্ষার্থীদের মেধা খাটিয়ে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ না দিয়ে পাশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নৈবিত্তিক উত্তর হুবহু তুলে বৃত্ত ভরাট করে ১০ মিনিটের মধ্যেই জমা নেয় কর্তৃপক্ষ।

এনিয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কর্তব্যরত কেন্দ্র সচিবকেই দায়ী করছেন অভিভাবকরা।

অন্যের উত্তরপত্র দেখে পাস করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পাপেল জানায়, মাত্র সাত আট মিনিটে অন্যের উত্তর পত্র হুবহু তুলে দিয়ে আসছি। তাই যারটা দেখে লিখছি সে ফেল করলে আমিও তো ফেল। সে যে পাস করবে তার তো নিশ্চয়তা নেই। খুবই সংশয়ে আছি। আরেক পরীক্ষার্থী আসিফ জানায়, আমাদেরকে গত বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া তা আমরা দেখতে পেয়ে হল সুপারকে জানালে কিছুক্ষণ পরেই আবার নতুন প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেয়। তাও প্রায় ২০ মিনিট পর।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে ২০১৮ সালের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা সামিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন, পাপেল, আসিফ, নিবির, রানাসহ আমার স্কুলের ৯ জন শিক্ষার্থী ২০১৮ সালের বহুনির্বাচনীর প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পর আমি জানতে পেরে হল সুপার নাজমুল সাহেবকে বলে চলতি পরীক্ষার নতুন প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, কেউ চাইনা যে কোনো সন্তানের পরীক্ষা খারাপ হোক।

হল সুপার নাজমুল হক রঞ্জনকে ০১৭১৭৯৮৯৩১৫ নাম্বারে বারবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব ও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিমা খাতুন বলেন, বিষয়টি আমি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে জানতে পারি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে। সাথে সাথে সহকারি কেন্দ্র সচিবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে জানান, এরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি সুরাহা করেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুফাখারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি আমাকে খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব জানিয়েছেন। তার কাছ থেকেই আমি শুনেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুব উর রহমান বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :