ময়মনসিংহে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে পানিবাহিত রোগ বিশুদ্ধ পানির সংকট

আরিফ আহমেদ :
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৩০ জুলাই, ২০১৯ /

ময়মনসিংহ জেলায় এবার আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে অনেক এলাকা। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় দ্রুততার সাথে জরুরী ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বন্যার্তদের মাঝে। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগেও ত্রাণ নিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা, ৩৭টি ইউনিয়ন পরিষদ, ২৬৪টি গ্রাম, ৩৯ হাজার ৯৪০টি পরিবার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন। এছাড়াও ১ হাজার ৬ শত ৩৩ হেক্টর ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ১ হাজার ২ শত ৯২টি হাঁস-মুরগী বন্যার পানিতে মারা গেছে। ১ শত ৮৩টি শিক্ষা ও ধর্মী প্রতিষ্ঠান, প্রায় ২ শত ১২ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৭ শত ৭৭টি টিউবওয়েল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ৭টি মেডিকেল টিম নিরলস কাজ করছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার শুকনো খাবার ও ১৪৫ মে. টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলাগুলো হল- ময়মনসিংহ সদর, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ফুলপুর, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল ও গফরগাঁও। নিহত ৮ জনের পরিচয় জানা গেছে, তারা হলেন- ফুলপুর উপজেলার- পুরাপুটিয়া গ্রামের মো: জাহাঙ্গীরের পুত্র ইয়াসিন (৩), কুটুরাকান্দা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে সুলতান (১২), পৌর এলাকার ভুট্রো মিয়ার ছেলে আব্দুল মালেক (১৬), নগুয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া আক্তার (১১)। হালুয়াঘাট উপজেলার- চকেরকান্দা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে শাকিল (৯) ও হযরত আলীর ছেলে জিহাদ মিয়া (৭), বিলডোবা গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে আরিয়ান। ধোবাউড়া উপজেলার দিগারকান্দা গ্রামের আ: সালামের ছেলে সোহাগ (১০)।
আরো জানা যায়- ময়মনসিংহ সদর, ধোবাউড়া, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ৮৩টি পরিবারের বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়ন ও সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নং ওয়ার্ডের জেলখানা চর এলাকার বীনাপাড়া নামক স্থানে শম্ভুগঞ্জ বোররচর বেরী বাঁধের প্রায় ২০/২২ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে ৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন।
বতর্মানে বন্যার পানি কিছুটা কমে আসলেও পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় রয়েছে সুপেয়পানির তীব্র সংকট।

একদিকে ডেঙ্গু আতংক, পাশাপাশি ডায়রিয়া, কলেরাসহ নানা রোগ বাসা বাঁধছে বন্যার থাবায় বিধ্বস্ত মানুষের শরীরে। মিলছে না প্রয়োজনীয় ঔষধ ও স্যালাইন। বন্যায় বিধ্বস্ত রাস্তায় চলাচলও করা যাচ্ছে না। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মহামারির আকার ধারণ করতে পারে বন্যা কবলিত এলাকায়।

ময়মনসিংহ জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন জানান, আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী মজুত রয়েছে, বন্যার্তদের মাঝে চাহিদা অনুযায়ী তা বিতরণ করা হবে। এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :