ময়মনসিংহে লাগেজে লাশ: এক সপ্তাহেও রহস্য উন্মোচিত হয়নি

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : সোমবার ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ /

ময়মনসিংহে এক সপ্তাহ আগে নগরীর চায়না ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তায় লাল ট্রাভেল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হাত, পা, মাথাবিহীন অজ্ঞাত পরিচয় লাশের রহস্য এখনো উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশের ব্যাপক তদন্ত অব্যাহত থাকলেও নেপথ্য থেকে ছায়া তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় পাটগুদাম চায়না ব্রিজ এলাকায় একটি লাল ট্রাভেল ব্যাগ পড়ে থাকতে থেকে পুলিশে খবর দেয়া হয়। দামি একটি ট্রাভেল লাল ব্যাগ পড়ে থাকার খবরে রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, র‌্যাব ১৪-এর সিও লে. কর্নেল এফতেখার উদ্দিন, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন, ওসি কোতোয়ালি মাহমুদুল ইসলাম, ওসি ডিবি শাহ কামাল আকন্দ, ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) কাজী আসাদুজ্জামান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রহস্যজনক বিধায় ঢাকায় বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর পাঠানো হয়। সারাদিন-সারারাত কঠোর পুলিশি প্রহরা ও গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখে পরদিন বোম ডিসপোজাল ইউনিট লাল ব্যাগটি খুলে দেখে হাত, পা, মাথাবিহীন এক যুবকের লাশের অর্ধেকাংশ।
এমন বিভৎস লাশ দেখে হতকচিয়ে যান উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা।

এমন নৃশংসভাবে অজ্ঞাত যুবকের দেহ থেকে মাথা, হাত ও পা কেটে ট্রাভেল ব্যাগে ভর্তি করে কারা ব্রিজের মুখে ফেলে গেল এ নিয়ে শহরময় নানা আশঙ্কার মধ্যে লাশের মাথা, হাত ও পা উদ্ধার হলো কুড়িগ্রাম জেলায়।

এদিকে ময়মনসিংহে উদ্ধার করা খণ্ডিত দেহের অর্ধেকাংশ ময়নাতদন্ত করে লাশের অর্ধেকাংশ ময়মনসিংহ মেডিকেলের হিমঘরে রেখে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

অপরদিকে কুড়িগ্রামে উদ্ধার করা মাথা, হাত ও পার ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠানো হয় ঢাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা কাটা মাথা, হাত ও পায়ের সাথে ময়মনসিংহে উদ্ধার করা লাশের বাকি অর্ধেকাংশের যোগসূত্র আছে এবং একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ময়মনসিংহে উদ্ধার করা লাশের অর্ধেকাংশের সাথে কুড়িগ্রামে উদ্ধার করা কাটা মাথা, হাত ও পায়ের মিল রয়েছে। একই ব্যক্তির লাশকে টুকরো টুকরো করে ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রামে ফেলা হয়েছে। কোতোয়ালি পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত করায় নৃশংস হত্যার রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এলেই তারা তদন্তে একধাপ এগিয়ে যাবে। কোতোয়ালি ও ডিবি পুলিশের বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। তারা আশাবাদী, যতবড় চক্রান্তই থাক না কেন, তারা এ চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য ভেদ করে নৃশংস হত্যার হোতাদের আটকে সমর্থ হবে।

আপনার মতামত লিখুন :