ময়মনসিংহে ৭০ বছরের নানার ধর্ষণে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাতনী

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : রবিবার ৭ জুলাই, ২০১৯ /

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আব্দুল বারেক (৭০) বছর বয়সের নানার ধর্ষণে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ১৫ বছর বয়সের কিশোরী নাতনী।

আব্দুল বারেক ওই ধর্ষিতা কিশোরীর মায়ের আপন চাচা। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি হজ্ব করেছেন বলেও জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৩১নং ওয়ার্ডের (চর ঈশ্বরদিয়া) নামাপাড়া এলাকায়।

এ ঘটনায় কিশোরীর মা গত ৩০ জুন রাতে আব্দুল বারেককে আসামী করে একটি অভিযোগ করেন। পরে ১ জুলাই রাতে আব্দুল বারেককে আসামী করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে ওই দিন রাতেই আপোষ-মিমাংসার জন্য আব্দুল বারেক থানায় গেলে কোতোয়ালী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান নিজে আব্দুল বারেককে গ্রেফতার করে পরদিন জেল হাজতে পাঠায়।

ওই কিশোরী বলেন, আমার নানা আব্দুল বারেকের বাসায় কাজ করতাম। একদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে ইসমাইল মাস্টার ওরফে কালা মাস্টার আসলে আমাকে রুটি বানিয়ে দিতে বলে। তখন আমি রুটি বানাচ্ছিলাম।

এর মধ্যে আব্দুল বারেক আমাকে পানির সাথে মিশিয়ে কিছু খাওয়ায়। পানি খাওয়ার পর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে দেখি আব্দুল বারেক আমাকে ধর্ষণ করছে।

পরে এ সময় ইসমাইল ওরফে কালা মাস্টার আমাকে হুমকি দিয়ে বলে এই কথা কাউকে বললে তোকে ও তোর পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলব। এর পর আরও দুই দিন আব্দুল বারেক বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোড়পূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে।

কিশোরীর মা বলেন, আব্দুল বারেক সম্পর্কে আমার আপন চাচা হয়। এই সুবাদে অভাবের সংসারে আমার মেয়েকে তার বাসায় কাজে দিয়েছিলাম। প্রায় এক বছর কাজ করার পর হঠাৎ একদিন তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মেয়ের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে আমার সন্দেহ হয়। এলাকাবাসী আমাকে মেয়ের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার কথা বলে।

গত ২৬ জুন ময়মনসিংহের একটি ডায়গনোস্টিক সেন্টারে আল্টাসনোগ্রাফি করানো হয়। ওই আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে আমার মেয়ের পেটে ২৭ সপ্তাহ ৩ দিন বয়সের বাচ্চা আছে বলে জানা যায়।

আমরা গরিব মানুষ। তাই মেয়েকে চাচার বাসায় কাজে দিয়েছিলাম। এখন আমার মেয়ে পেটে ৭ মাসের বাচ্চা। লোক-লজ্জার ভয়ে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারি না। এর সুষ্ঠু বিচার না পেলে মেয়েকে নিয়ে আমি আত্মহত্যা করব।

এদিকে আব্দুল বারেকের বাড়িতে তাকে খোঁজ করতে গেলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে, তার ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাদের বাড়িতে ওই মেয়ে কখনোই কাজ করত না। শুধু আসা যাওয়া করত।

ধর্ষণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সাথে আব্দুল বারেকের জমি নিয়ে সমস্যা আছে। আব্দুল বারেক জমি লিখে দেয় না বলেই, মেয়ের মা-বাবা আমার চাচার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ করছে।

কিশোরী সহোদর নানা ও আব্দুল বারেকের বড় ভাই আব্দুর রশিদ বলেন, ওই কিশোরী মেয়ে আমার নাতনী হয়। সে আব্দুল বারেকের বাসায় প্রায় এক বছর ধরে কাজ করে আসছে। ওই মেয়েকে তো আব্দুল বারেক বিয়েও করতে চেয়েছিল। এই কথা এলাকার সবাই জানে।

কিন্তু এখন সে তার ছেলে-মেয়েদের চাপে সব অস্বীকার করছে। আর আব্দুল বারেকের বিষয়ে যাদের সাথে কথা বলছেন। সবাই আব্দুল বারেকের লোক। তাই তারা মিথ্যা কথা বলছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই দিন রাতেই আব্দুল বারেককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই কিশোরী বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :