ময়মনসিংহ বিভাগে করোনায় মোট আক্রান্ত ১২ হাজার ৫৬৪জন, মৃত্যু-১৭৪

এইচ এম জোবায়ের হোসাইন
প্রকাশিত : শুক্রবার ২৫ জুন, ২০২১ /

করোনাভাইরাসের হটসপট এখনও ময়মনসিংহ বিভাগ। কিছুদিন কম থাকলেও ইদানিং আবারো আক্রান্ত, মৃত্যু, ঝুঁকি, আতংক এই বিভাগে সবই বাড়ছে। সরকার বাইরে সকলকে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করলেও অধিকাংশ মানুষই মাস্ক পড়ছে না।

আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ময়মনসিংহ মহানগরীর ১১টি এলাকায় জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৫ জুন) সকাল ছয়টা থেকে আগামী ১ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ চলবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিধিনিষেধের আওতাধীন এলাকাগুলো হচ্ছে নগরীর মাসকান্দা (বাসস্ট্যান্ড), চরপাড়া, নয়াপাড়া, কৃষ্টপুর, আলিয়া মাদ্রাসা, নওমহল, আর কে মিশন রোড, বাউন্ডারি রোড, পাটগুদাম, কাঁচিঝুলি ও গাঙিনারপাড় এলাকা। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব এলাকার সার্বিক কার্যাবলি/চলাচল (জনসাধারণের চলাচলসহ) বন্ধ ঘোষণা করা হলো। পুলিশ সূত্র জানায়, শহরের পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ড ও মাসকান্দা বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস চলাচল করবে না। এছাড়া লক ডাউন এলাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডাঃ মোঃ শাহ আলম জানান, ২৫ আগষ্ট’২০২১ পর্যন্ত এই ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১২ হাজার ৫৬৪জন তন্মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ১৭৪ জন । এপর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ১লাখ ৩২ হাজার ৮৮৬টি নমুনার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

বিভাগীয় পরিচালক জানান, গত চব্বিশ ঘন্টায় বিভাগের চার জেলায় মোট ৯৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তন্মধ্যে আক্রান্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ১৬৫জন। তন্মধ্যে ময়মনসিংহে ৬৮, নেত্রকোণায়১৪, জামালুরে ৩১ ও শেরপুরে ৫২জন। বিভাগে অক্রান্তর হা ১৭.১৫ শতাংশ।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডাঃ মোঃ শাহ আলম আরো জানান, করোনায় আক্রান্ত জেলাওয়ারী ময়মনসিংহে ৭,২৯৫জন, নেত্রকোনায় ১,৩৭০, জামালপুরে ২,৬৪০ জন, জন এবং শেরপুরে ১২৫৯ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০,৮৯১ জন। এনিয়ে বিভাগে সর্বমোট মারা গেছেন ১৭৪ জন। এরমধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৮১ জন, নেত্রকোনা জেলায় ২৮ জন, জামালপুরে ৪৫ জন এবং শেরপুর জেলায় ২০জন।
অকারণ ঘোরাঘুরি, শপিংসহ সবকিছু খুলে দেয়ার প্রেক্ষিতে অবাধ চলাচলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ জানান। গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য চলছে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘুরাঘুরি করার প্রেক্ষিতে করোনা সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। দ্রুত আক্রান্তের লাগাম ধরে টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, করোনা মোকাবেলা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসনের পাশাপাশি নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। মাস্ক বিতরণ, জীবাণু নাশক স্প্রে, গাড়িতে করে জীবাণু নাশক পানি ছিটানো হচ্ছে, শহরের তিন শতাধিক পয়েন্টে সাবান-পানি হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট, মাইকে সচেতনতামূলক প্রচারণা, বাজার ও মার্কেটে সচেতনতা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসময় অধিকাংশ কর্মসূচীতে মেয়র নিজে অংশ নিয়েছেন।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান জানান, গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে সকললে এগিয়ে আসতে হবে। একটি নিরাপদ ময়মনসিংহ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় পরিষদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় করোনা মনিটরিং সেলের সমন্বয়ক, বি.এম.এ ময়মনসিংহ জেলা শাখা ও বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এইচ. এ. গোলন্দাজ জানান, সরকার মাস্ক বাধ্যতামূলক করলেও এখনো মাস্ক পড়ছে না। গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য চলছে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘুরাঘুরি করার প্রেক্ষিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। দ্রুত আক্রান্তের লাগাম ধরে টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।

আপনার মতামত লিখুন :