‘শখ করে কেউ দেশ ত্যাগ করে না’

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : শনিবার ২৭ এপ্রিল, ২০১৯ /

বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, জীবন ও সম্পদের ওপর যখন হুমকির সৃষ্টি হয়, তখনই মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়। শখ করে কেউ দেশ ত্যাগ করে না।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর তিন ব্যক্তি নিহতের প্রতিবাদ ও জমি ফেরতের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সুলতানা কামাল বলেন, সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার হারিয়ে বিভিন্ন সময় দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ দেশ ত্যাগ করেছে।

বাগদা ফার্মে হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনার প্রায় তিন বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনই পাওয়া গেল না। এ ঘটনার বিচার হচ্ছে না কেন? এতো দিন ধরে এ সমস্যা জিইয়ে রাখার কারণ কী? ভুক্তভোগী মানুষ দরিদ্র ও অসহায় বলে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে তো এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘ওই এলাকায় সরকারের স্থানীয় যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা কি চান এসব মানুষ দেশ ত্যাগ করুক? তারা যদি সেটা না চান, তাহলে এর প্রমাণ তো তাদের দিতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রমাণ আমরা পাচ্ছি না।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে।

তিনি বলেন, রংপুর চিনিকল স্থাপনের জন্য আখ চাষ করতে ১৯৬২ সালে বাগদা ফার্ম এলাকার এক হাজার ৮৪০ একর জমি রিকুইজিশন করা হয়। এসব ছিল স্থানীয় সাঁওতাল ও বাঙালিদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি। চুক্তি অনুযায়ী, যে কাজের (আখ চাষ) জন্য জমি রিকুইজিশন করা হয়েছে, তা না করা হলে আগের মালিকদের জমি ক্ষতিপূরণসহ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালে রংপুর চিনিকল বন্ধ হয়। সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাষাবাদ শুরু করেন। জমি ফেরত পেতে ক্ষতিগ্রস্তরা আন্দোলন শুরু করলে মিথ্যা মামলা করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ, প্রশাসনসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা উচ্ছেদের নামে হামলা করে।

ফিলিমন বাস্কে বলেন, ওই ঘটনার পর হাইকোর্ট দুটি মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন। কিন্তু আড়াই বছর হলেও তদন্তের কাজ শেষ হয়নি।

ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘একই এলাকার সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার মামলা তিন মাসের মধ্যে চার্জশিট দিতে দেখেছিলাম। তাহলে এ মামলার তদন্ত আড়াই বছরে হচ্ছে না কেন?’

মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের প্রধান আইন উপদেষ্টা নিজামুল হক বলেন, ‘সরকার গোবিন্দগঞ্জ ইস্যুতে চুপ আছে কেন? আমরা চাই সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করুক।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও বেসরকারি সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, এ ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তবে সরকার যদি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাহলে কেমন হয়?

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, বাগদা ফার্মের সাঁওতালদের জমি একর প্রতি এক হাজার ৮০০ টাকা করে লিজ দেয়া হয়েছে। আর সাবলিজ দেয়া হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়। দুদক এত দুর্নীতি দেখে, এটা দেখে না?

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও বেসরকারি সংগঠন এএলআরডি।

আপনার মতামত লিখুন :