শেরপুরে করোনায় আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পাশে ওসি মামুন

প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

করোনায় আক্রান্ত হয়ে শেরপুর শহরের বাগরাকসার কাজী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা শেরপুর পিডিবি কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিদ্যুৎ ভবন) ঢাকায় চাকুরী করতেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) ভোর রাতে জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান।
মৃত্যুর পর পরিবারে পাঁচ সদস্যের করোনা পরিক্ষায় চারজনের পজিটিভ ধরা পরে। তারা সকলেই নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। পরিবার প্রধানের মৃত্যু এবং অনান্য সদস্যরা করোনা পজেটিভ হওয়ায় পরিবারটি যখন মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছে, তখন এলাকার মানু্ষ পরিবারটিকে দেখছেন অবহেলা অবজ্ঞার চোখে । নানা ধরনের বাজে উক্তি করে নাজেহাল করা, সেই সঙ্গে বাড়িটিকে লক্ষ্য করে স্থানীয়রা ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করেছেন। তাদের কেউ বাইরে বের হতে পারতেন না। ফলে তাদের ঘরে দেখা দেয় খাদ্য ও ঔষধ সংকট। এমতাবস্থায় নিহত সানোয়ার হোসেনের স্ত্রী, শেরপুর থানায় ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ফোনে বিষয়টি জানিয়ে সাহায্য চান। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন তাৎক্ষনিক এলাকায় এসে পরিবারটির খোঁজ খবর নেন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীদের উত্ত্যক্ত না করে তাদের সাথে মানবিক আচরনের জন্য বলেন। এমন পরিস্থিতিতে ওসি মামুন আনুসাঙ্গিক ঔষধপত্র ও নানা ধরনের খাবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি প্রতিদিনি ফোন করে খবর নিচ্ছেন তাদের। নিরাপত্তার জন্য পুলিশের গাড়ি বাড়ির চারপাশে টহলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

শুক্রবার বিকালে মৃত সানোয়ার হোসের স্ত্রী তাসলিমার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের শারিরিক অবস্থার তেমন কোন উন্নতি নেই। কিন্তু ওসি সাহেবের সহযোগীতায় এলাকাবাসীর অবহেলা থেকে রক্ষা পেয়ছি। আমার স্বামী যখন রাত ১০ টার দিকে বেশী অসুস্থ তখন আমি কোথাও এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারছিলাম না তখন ওসি সাহেব এম্বুলেন্স ব্যবস্থা করে দেন, টহল পুলিশ পাঠিয়ে আমার স্বামীকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে থাকাকালীন মুড়ি, লেবু, ফল, রান্না করা খাবার ইত্যাদি প্রতিদিনি পাঠিয়েছেন আমাদের জন্য। বর্তমানে তিনি ঔষধের পাশাপাশি আমার ডাযাবেটিক পরিক্ষার টেস্ট কিট এবং আমাদের পরিবারের জন্য প্রতিদিন একবেলা রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। আমার এই সংকটময় সময়ে আমার আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীরা অবহেলা অবহেলা অবজ্ঞা করলেও আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ওসি মামুন সাহেব। তিনি বুঝিয়ে দিলেন দেশে এখনোও ভালো মানুষ আছে। ওসি সাহেব আমাদের জন্য যা করেছেন তা আমরা কোনদিন ভুলতে পারবনা তার প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ। মামুন সাহেবের জন্য আমরা সবাই দোয়া করছি। সবাই আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “আমরা আছি আপনাদের পাশে, মানবিক পুলিশের চোখে জনতার আকাঙ্খা লেখা থাকে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করছে শেরপুর জেলা পুলিশ। আর সেই নৈতিক দায়িত্ববোধের তাগিদে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এবং রেঞ্জ ডিআইজি ও শেরপুর পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে করোনা আক্রান্ত সকল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। মানুষের বাহবা পাওয়ার আশায় আমি এসব করিনি, এটা আমার কাজ। আমি আমার দায়ীত্ব পালন করেছি।