শৈল্পিক বুননে ফসলের মাঠে ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য’ আঁকলেন কৃষক আব্দুল কাদির

রতন ভৌমিক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ /

ফসলের মাঠে সবজি দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন কৃষক আব্দুল কাদির (৪১)। সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার দেখা যায় কৃষকের নান্দনিকতা ও শিল্পীসত্তার ছোঁয়ায় সজ্জিত অপরুপ সৌন্দর্যময় ফসলের মাঠ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ভাইরাল হচ্ছে কৃষকের এ শিল্পকর্ম। ইতোমধ্যে কৃষক আব্দুল কাদিরের ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির ছবি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।

কাঁচামাটিয়া নদের কোল ঘেঁষা নিজের ৩২ শতাংশ জমিতে আবাদ করা লালশাক আর সরিষার আবাদ করে স্মৃতিসৌধ, নৌকা, শাপলা ও মুজিব শতবর্ষও এঁকেছেন। বঙ্গবন্ধুর ছবির চারপাশে জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলা আর নৌকার ছবি বাড়িয়েছে সৌন্দর্যের মাত্রা। দিনে দিনে লালশাক আর সরিষার চারাগুলো বড় হচ্ছে আর স্পষ্ট ও নান্দনিক হয়ে উঠছে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনকের অবয়ব। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই ফসলের এমন শিল্পকর্মেও প্রয়াস বলে জানান কৃষক আব্দুল কাদির।

জানা গেছে, গত বছরও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে ‘ভালোবাসার জমিন’ বানিয়েছিলেন তিনি। ফসলের মাঠে “নকশি কাঁথা” এঁকে পেয়েছিলেন ব্যাপক পরিচিতি। এবার তার ভালোবাসার জমিনে লালশাক আর সরিষা দিয়ে আঁকলেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।

কৃষক আব্দুল কাদিরের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পাড়া খালবলা গ্রামে। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক আবদুল কাদির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজেদের জমিতে কাজ শুরু করেন।

গত পহেলা ডিসেম্বর নিজ জমিতে পাড়া খালবলা বন্ধু মহল ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে এঁকেছেন এই অনন্য শিল্পকর্ম। চারদিকে যখন জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ে তোলপাড় চলছে সে সময় সরিষা ও লালশাক দিয়ে নিজের জমিতে রূপ দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবং চলমান ভাস্কর্য নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর চেতনা জাগ্রত রাখতে কৃষক কাদির নিজের সামর্থ্যানুযায়ী ফসলের মাঠে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
কৃষক কাদির বলেন, ফসলের ক্ষেতই আমার একমাত্র কর্মক্ষেত্র আর ভালোবাসা প্রকাশের স্থান। তাই মুজিববর্ষ উপলক্ষে বন্ধু মহল ডিজিটাল ক্লাবের সদস্যদের সহযোগিতায় শিল্পকর্মটি করা হয়েছে। জাতির জনকের চেতনা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করছি মাত্র।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার জানান, কৃষক আব্দুল কাদির মানসিক সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন ফসলের মাঠে। আর্থিক লাভবান না হলেও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন শৈল্পিক কাজ দেখতে আসার মধ্যেই তৃপ্তি পাচ্ছেন তিনি। তার এমন কাজে কৃষি বিভাগ গর্বিত। আগামী বছরের বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকের জন্য তার নাম প্রস্তাব করা হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ কৃষক আব্দুল কাদিরের ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর এই প্রতিকৃতি। এতে আমরা গর্বিত। তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :