সফল নারী উদ্যোক্তা ইয়াছমিন আক্তারের গল্প

মশিউর রহমান কাউসার
প্রকাশিত : বুধবার ২১ এপ্রিল, ২০২১ /

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শিখে প্রতিষ্ঠা লাভ করে নিজের পরিবারের হাল ধরার; কিন্তু বাবার অভাব-অনটনের সংসারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় হোঁচট খেতে হয় ইয়াছমিন আক্তারকে। বাবার আদেশ মানতে গিয়ে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও বেকার যুবক আওলাদ হোসেনের সঙ্গে ২০ বছর আগে বাল্যবিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে।

বিয়ের পর দারিদ্র্যের কারণে শ্বশুরবাড়িতে এক কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হন তিনি। শ্বশুরবাড়ির অবস্থান পাহাড়ি ও দরিদ্র এলাকা হওয়ায় সেখানে জীবিকানির্বাহের জন্য কর্মস্থানের তেমন সুযোগ ছিল না তখন। এরই মধ্যে তিন ছেলেসন্তানের মা হন তিনি। ফলে খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছিল তাকে। এ অবস্থায় কর্মসংস্থানের আশায় ২০০৫ সালে শেরপুরের ঝিনাইগাতি শ^শুরবাড়ি এলাকা থেকে স্বামী সন্তানদের নিয়ে চলে আসেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার পূর্বভালুকায় বাবার বাড়িতে।

বাবার বাড়িতে এসে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালান ইয়াছমিন। সুই-সুতোর বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নকশিকাঁথা ও কুটিরশিল্পের শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করে সামান্য আয়-রোজগার শুরু করেন। পরবর্তীকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে চার মাসের দর্জি কাজের প্রশিক্ষণ শেষে এ দপ্তর থেকে থেকে ঋণ নিয়ে গৌরীপুর পৌর শহরে নুরুল আমিন খান সড়ক এলাকায় স্বল্প পূঁজিতে ‘মা লেডিস কর্নার’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করেন।

ব্যবসার আয়ের টাকা দিয়ে পূর্ব ভালুকায় বাবার ভিটার সংলগ্ন নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে এখন স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছেন ইয়াছমিন। তিন ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছেন এ ব্যবসা থেকেই। এখন আর বাজারে নয়, বাড়ি বসেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় বেকার যুবনারী এবং গৃহবধূদের হস্ত ও কুটিরশিল্পের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি পাঁচ শতাধিক নারীকে বিনামূল্যে হস্ত ও কুটিরশিল্পের কাজ শিখিয়েছেন। বর্তমানে শুরু করেছেন জামালপুরে হস্তশিল্পের কাজ। স্থানীয় প্রায় দরিদ্র ও অসহায় ৫০ নারী সংসারের কাজের ফাঁকে এ শিল্পে নিয়মিত কাজ করে তাদের জীবিকানির্বাহ করছেন।

সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য গৌরীপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ২০১৬ সালে রোকেয়া দিবসে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা নারী’ হিসেবে সম্মাননা দেয় তাকে। ইয়াছমিন বলেন, ‘হতাশ না হয়ে অদম্য মনোবল ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনের প্রতিকূল অবস্থা থেকে মানুষের ভাগ্যকে পরিবর্তন করা সম্ভব। তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে এলাকায় একটি পোশাক তৈরির ক্ষুদ্র কারখানা স্থাপন করে স্থানীয় অসহায় এবং বঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা।’

আপনার মতামত লিখুন :