সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য, গ্রাম ছাড়া অসহায় পরিবার

উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২০ /

রিকশাচালক পরিবারের জমি দখলে নিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ। পরে দলিল করে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে জমি ফেরত চাইতে গেলে বাধে বিপত্তি। গ্রাম ছাড়া করা হয় ওই অসহায় পরিবারকে। নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা।

ওই প্রভাবশালী মহল নিজেদের লোকজন নিয়ে সালিশ বসিয়ে নামমাত্র কিছু টাকা দিয়ে জমি দলিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত না মানায় ওই রিকশা চালক পরিবারের লোকজনকে এলাকা থেকে হুমকি দিয়ে বিতাড়িত করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের শেখ ফজর আলীর নামে বন্দোবস্তকৃত খাস জমি জোর করে দখলে নেয় স্থানীয় কাঞ্চন তালুকদার। জমি দখলে নিয়ে কিছু জমি অন্যত্রে বিক্রিও করেন তিনি। পর ২০১৭ বন্দোবস্তকৃত খাস জমির মালিক শেখ ফজর আলীর ছেলে সাইফুল বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন, যা এখনো চলমান।

ভুক্তভুগী সাইফুল বলেন, মামলা চলা অবস্থায় গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সালিশ বসায় দখলদার কাঞ্চনের লোকজন। সেখানে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ওই জমি লিখে দিতে হবে। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করায় সালিশের আহবায়ক পুতুল মিয়া, কামাল মিয়া, মাসুদ মিয়াসহ কিছু লোক ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাড়িতে গিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, সে ভয়ে আজ ১০দিন যাবৎ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

তিনি বলেন, চার ভাইয়ের মধ্যে তিনজনই রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই, এক ভাই গার্মেন্টেসে চাকরি করে। এ কয়দিন রিকশা চালাতে না পারায় বাড়িতে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী-সন্তান অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। পরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আটপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

সাইফুল মিয়ার বৃদ্ধা মা হাজেরা বেগম বলেন, কাঞ্চন মিয়ার লোকজন জমি লিখে নিতে না পারায় আমার ছেলেদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় আজ তারা এলাকা ছাড়া। এসব করেই ক্ষান্ত হয়নি এখন তাদের নামে মাদকের মামলা দিয়েছে। পুলিশ এসেছিলো কিছু না পেয়ে চলে গেছে। এখন রাতভর তাদের লোকজন গাঁজা নিয়ে আমাদের বাড়ির আশপাশে ঘুরে, বাড়ির কোথাও ফেলে রেখে গাঁজা ব্যবসায়ী প্রমাণ করার জন্য। তাই রাত জেগে পাহারা দেই। এভাবে আর কতদিন চলবো, এসব অন্যায়ের বিচার চাই।

অভিযুক্ত কাঞ্চন তালুকদার বলেন, জমি সাইফুল মিয়ার বাবার নামেই আছে। তবে ওই সময় তার বাবা শেখ ফজর আলীকে জমিটি পাওয়ার বিষয়ে সাহায্য করেছিলাম। সম্প্রতি সালিশে ‌১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে লিখে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়, সেটি প্রথমে সাইফুল ও তার ভাইয়েরা মানলেও পরে তা প্রত্যাখান করে। এখন টাকা জমি কিছুই দেবো না, মামলা চলবে।

হত্যার হুমকি ও গ্রাম থেকে বিতাড়িত করার কথা স্বীকার করে মাতব্বর পুতুল মিয়ে ও কালাম মিয়া বলেন, তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আপোষ মীমাংসার জন্যে এসব কথা বলেছি, মেরে ফেলতে নয়।

আটপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া বলেন, কাগজপত্র নিয়ে আসলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আটপাড়া থানার ওসি মো.আলী হোসেন জানান, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষেরই মামলা রয়েছে। তবে হত্যার হুমকি-ধমকি বা বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার বিষয়টি জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত সহায়তা দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. কাজী আব্দুর রহমান বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :