সুরিয়া নদীতে সেতু নির্মাণ কর্মহীন মাখন মাঝি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : সোমবার ৫ জুলাই, ২০২১ /

সুরিয়া নদীর মাঝি মাখন রবিদাস (৩০)। সংসার চালাতেন নদীর গোদারা ঘাটে নৌকা পারাপার করে। সম্প্রতি নদীতে সেতু নির্মাণ হলে গোদারা ঘাট বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে কর্মহীন হয়ে পড়ে মাখন।

সংসারের হাল ধরতে তার স্ত্রী অনিমা রবিদাস সেলাই প্রশিক্ষণ নেন। কিন্ত টাকার অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারছেন না। এই অবস্থায় মাখন নিজের কর্মসংস্থান ও স্ত্রীর জন্য সেলাই মেশিনের দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মাওহা ও নেত্রকোনার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের সীমানা ভাগ করেছ সুরিয়া নদী। দুই পাড়ের গোদারা ঘাটে নৌকা পারাপার করতে নেত্রকোনা থেকে মাখনের পূর্বপুরুষদের এখানে নিয়ে আসা হয়। এরপর বাবা নবীন্দ্র রবিদাসের হাত ধরে পারাপারের পেশায় আসেন মাখন।

গোদারা ঘাটে নৌকা পারের বিনিময়ে মাখনকে দুই মওসুমে ধান দিত গ্রামবাসী। তবে গ্রামের বাইরের লোকজন নদী পার হলে ৫ টাকা করে দিতো। এভাবে যা আয় হত সেটা দিয়েই চলত সংসার।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে সুরিয়া নদীর গোদারা ঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল দুই পাড়ের মানুষ। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত জানুয়ারিতে গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে। নির্মাণ কাজ শেষে জুলাই মাসে সেতু চালু করা হলে গোদারা ঘাট বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ে মাখন।

মাখন রবিদাস বলেন, সেতু নির্মাণের পর রোজগার বন্ধ। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ভারী কাজ করতে পারিনা। কর্মসংস্থানের জন্য একটি অটোরিকশা ক্রয় কিংবা চায়ের দোকান দিলেও টাকার দরকার। কিন্ত আমার সেই পুঁজি নেই। এখন আমি কি খাবে, পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো এটাই দুশ্চিন্তা।

দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী ও পাঁচবছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে মাখনের। নিজের ভিটেমাটি না থাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন নদী পাড়ের বাসিন্দা লালমিয়ার জঙ্গলে ছোট্ট ঘর তুলে। সরকারি ঘর পেতে কাগজপত্র জমা দিলেও ঘর পাননি মাখন। এখন নৌকা পারাপার বন্ধ হওয়ায় লালমিয়া তাকে উচ্ছেদ করেন কি না এমন শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

মাখনের স্ত্রী অনিমা রবিদাস বলেন সুরিয়া নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলে স্বামীর উপার্জন বন্ধের বিষয়টি আঁচ করতে পারি। তাই আয়ের পথ বের করতে সেলাই প্রশিক্ষণ নেই। কিন্ত অভাবের তাড়নায় সেলাই মেশিন কিনতে পারিনি।

গ্রামের বাসিন্দা আজহারুল করিম বলেন, সেতু নির্মাণের পর মাখন ভাই কর্মহীন হয়ে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে। ভিটেমাটিহীন মাখন ভাইকে সরকারি ঘর দেয়ার পাশাপাশি যেন কর্মসংস্থান করে দেয়া হয় এটাই দাবি।

ইউএনও হাসান মারুফ বলেন, মাখন মাঝির বিষয়টি জানার পর তাকে ম্যানুয়েল রিকশা দিতে চেয়েছি। কিন্ত সে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাবি করায় আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি নতুন অর্থ বছরে সরকারি ঘর বরাদ্দ আসলে মাখন মাঝিকে ঘর দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :