সুস্থ হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতা তুলছেন স্বামী-স্ত্রী

উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : সোমবার ২১ জুন, ২০২১ /

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সুস্থ। কারো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও কাগজে-কলমে তারা প্রতিবন্ধী। দুজনের নামেই রয়েছে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে তারু মিয়া ও তার স্ত্রী সমলা বেগম এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারি উপকারভোগীদের টাকা। স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রত্যয়নের পর সরকারি তালিকাভুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা এ ভাতা নিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, মদন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে তারু মিয়ার প্রতিবন্ধী ভাতার বহি নং ১৫৩ ও তার স্ত্রী সমলা বেগমের বহি নং ১৫৭ । সব নিয়ম মেনে প্রতিবন্ধী ভাতাও তুলছেন নিয়মিত। সব মিলিয়ে তিন মাস পর পর সাড়ে চার হাজার টাকা ভাতা তুলে নিচ্ছেন এ দম্পতি। তবে এ বিষয়ে এলাকার কিছু সচেতন মানুষ জানলেও তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউই মুখ খুলছেন না।

স্থানীয়রা আরও জানান, ভাতাভোগী স্ত্রী সমলা আক্তার ও তার স্বামী সুস্থ-সবল অবস্থায় বাড়িতেই আছেন। সমলার স্বামী স্বাভাবিকভাবেই সব কাজকর্ম করেন।

তদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে কি-না জানতে চাইলে সমলা বেগম বলেন, ‘তাদের দুজনের নামে ভাতার কার্ড আছে ও তারা নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করছেন।’

তবে তারা প্রতিবন্ধী কি-না এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে তার স্বামীকে পাওয়া যায়নি।

তিয়শ্রী ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়নূল হক বলেন, ‘তারু মিয়া ও তার স্ত্রী সমলা আক্তার প্রতিবন্ধী না হয়েও নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করছেন। বিষয়টি আমি কয়েকদিন হলো জেনেছি। এতে যারা প্রকৃত প্রতিবন্ধী তারা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। দ্রুত তালিকা থেকে তাদের নাম বাতিল করার জন্য বলেছি।’

তিয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবন্ধী না হয়েও দম্পতির নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি খুবই অন্যায় হয়েছে। তাদের নাম অচিরেই বাতিল করা হবে।’

ভাতা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ জামান আহমেদ বলেন, ‘এ দম্পতির নাম বাতিল করা হবে। প্রতারণা করে ভাতা উত্তোলনের দায়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলবো।’

মদনের ইউএনও বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখবো। যদি তারা ভুয়া তালিকাভুক্ত হয়ে সুবিধাভোগ করে থাকেন তাহলে তা বাতিলের ব্যবস্থা করবো।’

আপনার মতামত লিখুন :