সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনে হুমকিতে শহর রক্ষা বাঁধ

উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার ৫ অক্টোবর, ২০১৯ /

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীতে বালু মহালে শহর রক্ষা বাঁধের পাশেই ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু ও নুড়ি পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্গাপুর শহর রক্ষা বাঁধ। সরকার নির্ধারিত সীমানার বাইরেও নদীর বুকে ড্রেজার বসিয়ে তোলা হচ্ছে বালু ও নুড়ি পাথর। ভেঙ্গে যাচ্ছে সড়ক, ঝুঁকিতে রয়েছে সেতু ও কালচারাল একাডেমী।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বালু মহালে একটি ড্রেজার ও নদীর তীর থেকে অন্তত ৫০০ ফুট দূরে বালু উত্তোলনের কথা। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের সামনেই নদীতে পাঁচটি বালু মহালে অসংখ্য বাংলা ড্রেজার বসিয়ে শহর রক্ষাবাঁধের পাশে দিন রাত নদীর তলদেশ থেকে বালু ও নুড়ি পাথর উত্তোলন করছে বালু ব্যবসায়ীরা। ওই বালু ট্রাক ও ট্রলিতে করে স্থানীয় প্রশাসনের সামনেই প্রকাশ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা বলেন, সোমেশ্বরী নদীর চরে অসংখ্য ড্রেজার দিয়ে দিন রাত বালু ও পাথর তোলা হচ্ছে। সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে মাত্রাতিরিক্ত ভিজে বালু ট্রাক ও লড়িতে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী পরিবেশবাদী মো. অহিদুর রহমান বলেন, সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এ অনিয়ম। কারো কথা শুনছে না বালু ব্যবসায়ীরা। এরা এত জোর কোথায় পায়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা নেয়া উচিত। তা না হলে ওই এলাকার জীববৈচিত্র নষ্ট হয়ে যাবে। প্রকৃতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ফারহানা খানম বলেন, বাঁধ এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। ইজারাদারদের নদীর মাঝখান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উঠানোর কথা বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ও ভিজে বালু পরিবহনের জন্য প্রায়শই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, শহর রক্ষাবাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে দেখার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের। বাঁধের পাশ থেকে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সমন্বয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :