স্কুলের শহীদ মিনারের সামনে বাগানের বাউন্ডারি ওয়াল, শ্রদ্ধা নিবেদনের জায়গা নেই !

গৌরীপুর পুম্বাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

শাহজাহান কবির
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার ২৪ জুন, ২০২১ /

শহীদ মিনার একটি আবেগ, একটি স্বাধীকার, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের তাজা প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা সেই ত্যাগ ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে রাখতেই সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। বাঙালি জাতির জন্য ভাষা আন্দোলন একটি গৌরবময় ইতিহাস। প্রতি বছর ২১ ফেব্রæয়ারীতে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ। আর সে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর ফাঁকা জায়গা না রেখেই নির্মান করা হল বাগানের বাউন্ডারি ওয়াল। এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের পুম্বাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় সাদিল মিয়া (২৩) জানান, শহীদ মিনারটির সামনে ফুল বাগান নির্মাণ সম্পূর্ণ একটি বেআইনি কাজ। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ অন্য মহান জাতীয় দিবসগুলোতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এ শহীদ মিনারে। শহীদ মিনারের সামনে কোন ফাঁকা জায়গা না রেখেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাগানের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেছে। এতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় মঞ্জুরুল হক (২২) জানান, স্কুলের মাঠে শহীদ মিনারের সামনে বাগানের বাউন্ডারিটি দেখলে মনে হয় এটি একটি গোরস্থান। এতে কোন ফুলের গাছ নেই। স্কুলের মাঠে বাগান তৈরী করার অনেক জায়গা ফাঁকা জায়গা থাকা সত্বেও কেন শহীদ মিনারের সামনে বাগান নির্মাণ করা হল বিষয়টি বোধগম্য নয় বলে জানান তিনি।
স্থানীয় এসএসসি পরীক্ষার্থী সাকিব আলম বলেন, এমন ঘটনা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। এ ঘটনায় রীতিমতো শহীদদের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে।

শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য খসরু পারভেজ রাজীব জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে স্কুলের মাঠে এ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের মতামত না নিয়ে অপরিকল্পিতভাবে শহীদ মিনারের সামনে বাগানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। শহীদ মিনারের সামনে থেকে বাগানের বাউন্ডারি ওয়াল অপসারণপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আর্শেদা বেগম জানান, শহীদ মিনার থেকে ২ ফুট দূরত্ব রেখে বাগানটি তৈরী করা হচ্ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দকৃত অর্থে এ বাগানটি তৈরী করা হয়।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও এডহক কমিটির সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে শহীদ মিনারের সামনে এ বাগান নির্মাণ করা হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। এটি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন। এ ধরণের কাজ হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নূন্যতম জায়গা রাখার দরকার ছিল। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :