স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে গণধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ৩

উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার ৮ জুন, ২০১৯ /

ঈদে নিজ বাড়ি বেড়াতে এসে কথিত স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে গণধর্ষণের শিকার পোশাককর্মীর দায়ের করা মামলায় ধর্ষক টিপু মিয়া (২৩), আনোয়ার (২৪) ও আমির হামজাকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কেন্দুয়া থানা পুলিশের ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, গণধর্ষণের শিকার পোশাককর্মী বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে টিপু মিয়া, আনোয়ার ও আমির হামজার নাম নাম বেরিয়ে আসে।

তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শুক্রবার রাতে গুগবাজার এলাকা থেকে ধর্ষক টিপু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ধর্ষক আনোয়ার ও আমির হামজাকে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে তারা।

পুলিশকে তারা জানিয়েছে, পোশাককর্মীর কথিত স্বামীর নাম সুমন নয়। তার প্রকৃত নাম নুরে আলম। তার গ্রামের বাড়ি মদন উপজেলার জাওলা গ্রামে। তারা পরস্পর বন্ধু। স্বামী সুমন ওরফে নুরে আলমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেলার মাস্কা গ্রামের নারী পোশাককর্মীর সঙ্গে মদন উপজেলার জাওলা গ্রামের সুমন নামে এক পোশাককর্মী গাজীপুরের একটি কারখানায় চাকরি করে আসছিল। তারা দুইজন বিবাহিত হওয়ার পরও একই জেলার সুবাদে তাদের সঙ্গে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। ঈদের ছুটিতে তারা দুইজন বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে সুমন জাওলা থেকে মোটরসাইকেলে মাস্কায় এসে নারী পোশাককর্মীকে তাদের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তুলে নিয়ে যায়।

মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যার পর গুগবাজার এলাকার শাপলা ইটখোলার সামনে এসে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে বলে নারী পোশাককর্মীকে গাড়ি থেকে নামতে বলে। গাড়ি ঠিক করার কথা বলে কাকে যেন ফোন দেয় সুমন। এ সময় ইটখোলার ভেতর থেকে তিন যুবক এসে সুমন ও নারী পোশাককর্মীকে নিয়ে যায়। পরে ইটখোলার ভেতরে নিয়ে সুমনের হাত বেঁধে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তিন যুবক। পরে ওই নারীকে একা ফেলে তিন যুবক ও সুমন মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা করেন নারী পোশাককর্মী।

আপনার মতামত লিখুন :