স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে পড়েছিল নারী চিকিৎসকের লাশ

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২০ /

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টার থেকে ডা. সুলতানা পারভীন (৩৭) নামে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ডা. সুলতানা পারভীন মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি রাজশাহী। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারের ওই কক্ষে তিনি একাই থাকতেন। তবে ছুটিতে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকতেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত সুলতানা পারভীনকে কেউ দেখেননি। সকাল থেকে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও যাননি। বিকেলের দিকে সবার সন্দেহ হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হকসহ কয়েকজন চিকিৎসক ওই কোয়ার্টারে যান। তারা কক্ষের দরজায় অনেক ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ কক্ষের দরজা ভেঙে ওই চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করে।

মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক বলেন, সুলতানা পারভীন কোয়ার্টারের ওই কক্ষে একাই থাকতেন। শনিবার তার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। তবে তিনি জামালপুর শহরের বেসরকারি হজরত শাহজামাল (রহ.) জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখেছেন। রাত ৯টার দিকে ওই হাসপাতালের গাড়িতে করে তাকে কোয়ার্টারে নামিয়ে দিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাকে আর কেউ দেখেননি।

তিনি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় কক্ষের দরজা ভেঙে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। তার মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে ছিল। মুখমণ্ডল অনেক কালো ছিল।

মেলান্দহ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম খান বলেন, কক্ষের দরজা ভেঙে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে ওই চিকিৎসকের মরদেহ বিছানায় পড়ে থাকা অবস্থায় পায়। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :