ময়মনসিংহবৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল ২০১৫

তাজুলসহ ৫ নেতার বিরুদ্ধে আদেশ ২০ এপ্রিল

গৌরীপুর নিউজ
এপ্রিল ১৬, ২০১৫ ২:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তাজুলঢাকা: জামায়ত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের রায়ের পর তার আইনজীবী মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বক্তব্যের মাধ্যমে এবং জামায়াত-শিবিরের ৫ নেতার বিরুদ্ধে হরতালের মাধ্যমে আদালত অবমাননার অভিযোগ বিষয়ে আদেশের দিন আগামী ২০ এপ্রিল ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ছাড়া জামায়াতের ৫ নেতা হলেন- জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, শিবিরের সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান।

এর আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল।

অপরদিকে অভিযোগ আমলে না নেয়ার বিষয়ে জামায়াত নেতাদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মশিউজ্জামান। আইনজীবী তাজুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তারিকুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামিম।

পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২০ এপ্রিল সোমবার দিন ঠিক করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত ৩ মার্চ জামায়াত নেতাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ১১ পৃষ্ঠার লিখিত জবাব দাখিল করেন। গত ২৮ জানুয়ারি আদালতে তাজুল ইসলামের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদোজ্জা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা সম্বলিত লিখিত জবাব দাখিল করেন।

এর আগে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের প্রতিবাদে ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি দু’দিনের হরতাল ডাকে জামায়াত। বিবৃতিতে এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নানা বিরূপ কথা বলেন জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ পদে থাকা নেতারা।

অন্যদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আজহারের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন যে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়েছেন, সেটা গ্রহণ না করে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা হলেই সুবিচার হতো’।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যে সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে তা এক ‘অষ্টম আশ্চর্যজনক ঘটনা’ বলেও মন্তব্য করেন তাজুল।

আইনজীবী তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে ট্রেন থেকে আজহারকে নামতে যে তিনজন দেখেছেন বলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের কেউ দেখেছেন ৬ কিলোমিটার দূর থেকে, কেউ ৩ কিলোমিটার ও আবার কেউ দেখেছেন দেড় কিলোমিটার দূর থেকে। এসব সাক্ষ্যের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা ‘অষ্টম আশ্চর্যজনক ঘটনা’ বলে আমরা মনে করি।’

এসব সাক্ষ্য-প্রমাণে মৃত্যুদণ্ড হওয়া দূরের কথা, এসব অভিযোগ দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনের জরিমানা হওয়ার দরকার ছিল বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

    ইমেইলঃ news.gouripurnews@gmail.com