ময়মনসিংহরবিবার , ১৪ এপ্রিল ২০১৯

কেন্দুয়ায় আধ্যাত্মিক ফকিরের মৃত্যু, দাফন নিয়ে বিরোধ

গৌরীপুর নিউজ
এপ্রিল ১৪, ২০১৯ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লাল মিয়া ফকির (৮০)। এলাকায় তিনি ‘মোটা মামা’ হিসেবে পরিচিত। এই ‘আধ্যাত্মিক’ ফকিরের মৃত্যুর পর তার দাফন নিয়ে ভক্ত ও পরিবারের লোকজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত থানা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকও হয়। কিন্তু বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লাশটি এখন কেন্দুয়া থানা হেফাজতে নিয়ে রাখা হয়েছে।

গত শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১০টার দিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা গ্রামের ভক্ত ইনছান মিয়ার বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান লাল মিয়া ফকির।

জানা গেছে, লাল মিয়া ফকিরের গ্রামের বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের চিটুয়া-নওপাড়া গ্রামে। তিনি অনেকদিন ধরেই বাড়ি- ঘর ছাড়া। এ অবস্থায় গত চার মাস ধরে তিনি সান্দিকোনা ইউনিয়নের সান্দিকোনা গ্রামের ইনছান মিয়ার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। একপর্যায়ে ওই ফকিরের নামে ১০ শতাংশ জমিও দলিল করে দেন ইনছান মিয়া।

লাল মিয়া ফকির এই ভক্তের বাড়ি মারা গেলে সেখানেই তার কবর খোড়া হয়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে লাল মিয়া ফকিরের স্বজনেরা সান্দিকোনায় ছুটে গিয়ে লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। কিন্তু ভক্তরা তা কোনোভাবেই মানতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরাত হোসেন গাজীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ জানাজাস্থল সান্দিকোনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের খেলার মাঠে ছুটে আসেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে বিকেল ৪টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হলেও দুই পক্ষের বিরোধের কারণে মরদেহের দাফন আর হয়নি।

এ অবস্থায় কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান, ওসি ইমরাত হোসেন গাজী এবং সান্দিকোনা ও পাইকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যথাক্রমে আজিজুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবির চৌধুরী উভয়পক্ষকে নিয়ে সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চললেও লাশ দাফনের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধ এড়ানোর জন্য শেষ পর্যন্ত লাশটি থানা হেফাজতে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে কেন্দুয়া থানার ওসি ইমরাত হোসেন গাজী জানান, মরদেহ দাফন নিয়ে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে নারাজ। তাই বিষয়টির কোনো সুরাহা না হওয়ায় মরদেহটি থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    ইমেইলঃ news.gouripurnews@gmail.com