ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৭ জুন ২০২১

বন্যহাতির আক্রমণে অতিষ্ঠ হালুয়াঘাট সীমান্তের মানুষ

উপজেলা প্রতিনিধি
জুন ১৭, ২০২১ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বন্যহাতির দল ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ, বিভিন্ন ফলের গাছ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, স্থানীয়দের সব ধরনের সহায়তা স্থানীয়দের করা হচ্ছে। অবৈধ জায়গায় কিছু বসতবাড়ি স্থাপন করা হয়েছে। সেসব এলাকাতেই ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সূত্র জানায়, ১৩ জুন (রবিবার) মধ্যরাতে সীমান্তবর্তী কড়ইতলী গ্রামের মোহর উদ্দিনের বাড়িতে তাণ্ডব চালায় বন্যহাতির দল। এতে তার টিনশেডের গোয়ালঘর ভেঙে যায়। শুধু তাই নয়, বিনোদনের জন্য কড়ইতলীতে গড়ে ওঠা পার্কের সীমানা প্রাচীরের ক্ষতি করে বন্যহাতি।

বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো- উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের কড়ইতলী, ধোপাজুরি, বানাই চিরিঙ্গিপাড়া, কোঁচপাড়া, রঙ্গমপাড়া, গোবরাকুড়া। ভারতের চেরেঙ্গপাড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় হাতির দল খাবার খুঁজতে বাংলাদেশের এসব এলাকায় ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি করছে।

স্থানীয়দের ধারণা, প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি হাতি দলবেঁধে খাবারের সন্ধানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে নেমে আসে এবং মানুষের বাড়ি-ঘরে আম, কাঁঠাল, কলাসহ বিভিন্ন ফল নষ্ট করছে হাতির পাল। এছাড়াও ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বন্যহাতির আনাগোনা বেড়ে গেছে। হাতির আতঙ্কে সীমান্ত এলাকায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কয়েক শত নারী ও পুরুষ।

ভূবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম সুরুজ মিয়া বলেন, আগে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কেরোসিন দিয়ে মশাল জ্বালিয়ে ফটকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কিছু যুবক রাতে পালাক্রমে পাহারা দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। তাছাড়া এসব এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ নেই। আমি একাধিকবার সৌর বিদ্যুতের স্ট্রিট লাইট দেয়ার জন্যও বলেছি। এটি পাওয়া গেলে অন্তত অন্ধকার থাকত না এবং হাতির দল এসব এলাকায় আসত না। এমতাবস্থায় প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ভারতীয় বন্যহাতির দল প্রতি বছরই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তবে এ বছর হাতির প্রবেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি। গত এক মাস ধরে হাতির পাল তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় হাতির তাণ্ডব বেশি হলেও মাঠে ধান না থাকায় তেমন ক্ষতি হচ্ছে না। তবে এ বছর হাতি একটি ঘর ভাঙচুর করেছে। এছাড়া ফসলের মাঠে ধান না থাকায় বিভিন্ন ফলের গাছ এবং স্থানীয়দের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেরোসিনের মশাল, ফটকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং স্থানীয় যু্বকরা নিয়মিত পাহারা দিচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কেমন সহায়তা করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষতি তেমন হয়নি। তবে কেউ যদি ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন তাহলে তাকে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

বিজিবি, বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রিয় পাঠক আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর,খবরের পিছনের খবর সরাসরি জানাতে যোগাযোগ করুন। আপনার তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

মোবাইলঃ +8801791-601061, +8801717-785548, +8801518-463033

ইমেইলঃ news.gouripurnews@gmail.com