ময়মনসিংহরবিবার , ১৯ মে ২০২৪

তথ্য প্রযুক্তির যুগে ক্রিশালে এতিম কিশোর রবিউল হত্যার প্রধান আসামী উজ্জ্বল কি অধরাই থেকে যাবে?

অনলাইন ডেস্ক
মে ১৯, ২০২৪ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

১৮ মে ২০২৩ তারিখ বৃহস্পতিবার। অন্যান্য দিনের মত এদিনটি শুরু হলেও হঠাৎ হিংস্রথাবায় জীবন প্রদীপ নেভার দ্বারপ্রান্তে চলে যায় রবিউল। নানার বাড়ীর পার্শ্ববতী বাসিন্দা মো: উজ্জল মিয়া, পিতা: মৃত মো: আব্দুল মালেক এবং তার সহযোগীরা সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮ টায় রবিউলকে বাড়ী থেকে ধরে এনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে আসে।

উজ্জলের ‘মেসার্স উজ্জল রাইস মার্কেটিং প্রসেস’ নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ০৫ (পাঁচ) লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগের অজুহাত তুলে শতশত মানুষের সামনে নির্মমভাবে পিটিয়ে অর্ধমৃত করে ফেলে রবিউলকে। এতিম অসহায় রবিউল উজ্জলের পায়ে ধরে আকুতি জানালেও রেহাই পায়নি। রবিউলের হাত পা বেঁধে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে সেখানেও নির্মমভাবে প্রহার করে। নির্মম প্রহারের একপর্যায়ে রবিউল অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে এনে ফেলে রাখে। রবিউলকে নির্মমভাবে প্রহারের সংবাদ পেয়ে বৃদ্ধ নানী ছুটে এসে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে উজ্জল ও তার সহযোগীরা বাঁধা দেয়। নিরুপায় হয়ে রবিউলের নানী বাড়ীতে রেখে স্থানীয় পল্লী ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা করান। এ ঘটনায় কোন মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলে খুন করে ফেলবে বলে উজ্জল ও তার সহযোগীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এদিকে, ২৬ মে ২০২৩ তারিখ আনুমানিক রাত ১২:৩০ ঘটিকায় রবিউলের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাকে সিএনজিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বজনেরা রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে রাত ০৩ টার দিকে এতিম কিশোর রবিউল মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ে। এসময় জাতীয় সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে ত্রিশাল থানা পুলিশ এসে রবিউলের লাশ থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তিতে লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

নির্মম এই হত্যাকান্ডে রবিউলের মামা মো জাকির হোসেন একই গ্রামের মো: উজ্জল মিয়া’কে প্রধান আসামী এবং অন্য ০৪ জনের নাম উল্লেখ করে ত্রিশাল থানায় পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২/৩৪২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। বিভিন্ন সময়ে পুলিশ মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করলেও পরবর্তিতে তারা জামিনে বের হয়ে আসে।
রবিউল হত্যাকান্ডের মূলহোতা উজ্জল মামলার ১নং আসামী। যার হিংস্রতায় পৃথিবীর মায় ত্যাগ করে মৃত্যুরকুলে ঢলে পড়ে রবিউল। কিন্তু তাকে আজ পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি ত্রিশাল থানা পুলিশ। বর্তমানে অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে উজ্জলকে আজও গ্রেফতার করতে না পারায় রবিউলের স্বজন ও এলাকাবাসী আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, উজ্জল কি অধরাই থেকে যাবে? মামলার বাদী মো: জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাগিনা রবিউলকে উজ্জল ও তার সহযোগীরা শতশত মানুষের সামনে দিনদুপুরে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মূমুর্ষ অবস্থায় আমার মা হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেও হত্যাকারীরা নিয়ে যেতে দেইনি। হত্যাকান্ডের মূলহোতা উজ্জল আজও গ্রেফতার হয়নি। বরং তার লোকজন বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাই পুলিশ কর্তৃক উজ্জলকে গ্রেফতারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

রবিউল হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে গণসাংস্কৃতিক সংগঠন সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ গত ১৫ জুন ২০২৩ তারিখে ময়মনসিংহ শহরে এবং ১৯ জুন ২০২৩ তারিখে নান্দাইল উপজেলা সদরে মানববন্ধন করে। পরবর্তিতে উজ্জলকে গ্রেফতারের দাবিতে ১৭ জুলাই ২০২৩ তারিখে ডিআইজি, ময়মনসিংহে রেঞ্জ বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে। আজও উজ্জল গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হান্নান আল আজাদ বলেন, দেশে আইন আদালত রয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনী রয়েছে। কেহ কোন অজুহাতে প্রকাশ্য দিবালোকে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে না। এটা সভ্য সমাজের চিত্র নয়। তথ্য প্রযুক্তির যুগে পুলিশ আজও উজ্জলকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উজ্জলকে গ্রেফতারের লক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ ত্রিশাল থানা কর্তৃক জজকোর্ট, ময়মনসিংহে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়া হয়েছে (নং ১৮, ধারা: ৩৪২/৩০২/৩৪, পেনাল কোড ১৯৬০)। উক্ত চার্জশিটে মামলার ১নং আসামী উজ্জলকে পলাতক উল্লেখ করে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে, উজ্জল পলাতক থাকলেও গোপনে বাড়ীতে আসা যাওয়া করে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।

 

জিএন/তানসেন/এইচ

    ইমেইলঃ news.gouripurnews@gmail.com